যার পোশাকি নাম কোভিড-১৯, এখন ম’হামা’রি আকারে বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।যেভাবে প্রতিদিন বহু মানুষ এই রো’গে আ’ক্রান্ত হচ্ছে তাতে মানুষ উ’দ্বি’গ্ন। এর বিস্তার এবং কীভাবে এই সং’ক্র’মণ ঠেকানো যাবে তা নিয়ে মানুষের মনে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ভাই’রাস শ’রীরে ঢুকলে উপসর্গ দেখা দিতে সময় লাগে গড়ে পাঁচ দিন। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিতে সময় লাগতে পারে আরও বেশি দিন।

গত ডিসেম্বরে চীনে প্রথমবারের মতো নভেল ক’রোনাভা’ইরাসে শনাক্তের পর থেকেই এর সং’ক্র’মণের মাধ্যম খুঁজে পেতে উঠে পড়ে লেগেছেন বিজ্ঞানীরা। জানা গেছে, প্রা’ণঘা’তী এই ভাই’রাস মানুষের হাঁচি-কাশি, থুতু, মুখের লালা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের শ’রীরে সংক্রমিত হয়।

সেক্ষেত্রে আ’ক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসক’ষ্টের মতো বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। তবে গবেষকরা এমন কিছু ঘ’টনা খুঁজে পেয়েছেন যেখানে ক’রোনা পজিটিভ শনাক্ত হলেও আ’ক্রান্ত ব্যক্তির শ’রীরে কোনও ধরনের উপসর্গ দেখা যায়নি। উপসর্গহীন এ ধরনের রো’গীরা ক’রোনা ছড়ানোয় কতটুকু ভূমিকা রাখছেন তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

কিন্তু ভাই’রাস যদি আপনার ফুসফুসে বেশ চে’পে বসে তাহলে আপনার শ্বাসক’ষ্ট এবং নিউমোনিয়া হতে পারে।আ’ক্রান্ত প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনের হয়ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হতে পারে।আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখে নেয়া যাক উপসর্গহীন রো’গীদের বি’ষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ত’থ্য-

১। উপসর্গহীন রো’গী কারা?

যেসব ব্যক্তি ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন অনেক দিন আগে, কিন্তু তাদের কোনও ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়নি অর্থাৎ অ’সুস্থ হননি, তাদেরই উপসর্গহীন বা অ্যাসিম্পটমেটিক রো’গী বলা হচ্ছে।

তবে অ্যাসিম্পটমেটিকের সঙ্গে প্রি-সিম্পটমেটিক রো’গীর পার্থক্য রয়েছে। ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হওয়ার পর উপসর্গ দেখা দিতে সাধারণত বেশ কিছুদিন সময় লাগে। সেক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেয়ার আগপর্যন্ত এ ধরনের রো’গীকে বলা হচ্ছে প্রি-সিম্পটমেটিক।

সাধারণত ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যেই উপসর্গ দেখা দেয়। তবে এ পর্যন্ত বেশিরভাগ রো’গীদেরই পাঁচ থেকে ছয়দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ত’থ্যমতে, ক’রোনা সং’ক্র’মণের সবচেয়ে পরিচিত উপসর্গগুলো হচ্ছে- জ্বর, সর্দি, শুষ্ক কাশি, শ্বাসক’ষ্ট, গ’লায় খুসখুস, ডাইরিয়া, স্বাদহীনতা প্রভৃতি।

২। উপসর্গহীনরা কি ক’রোনা ছড়াতে পারেন?

এখন পর্যন্ত এ প্রশ্নের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের উত্তর: হ্যাঁ!

উপসর্গহীনদের মাধ্যমে ক’রোনা ছড়াতে পারে এ ধারণা বজায় রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। এ বি’ষয়ে আরও জানতে গ’বেষ’ণা চলছেঅ্যাসোসিয়েশন অব পিজিশিয়ানস অব পাকিস্তানি ডিসেন্ট অব নর্থ আমেরিকার সভাপতি ডা. নাহিদ উসমান বলেন, ‘উপসর্গহীনদের সাধারণত স্ক্রিনিং করা হয় না, অন্তত যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে না। তারা অবশ্যই রো’গ ছড়াতে পারেন।’

৩। উপসর্গহীনরা কীভাবে ভাই’রাস ছড়ান?

সিম্পটমেটিক (উপসর্গযুক্ত) ও প্রি-সিম্পটমেটিক রো’গীদের মতো অ্যাসিম্পটমেটিক রো’গীরাও হাঁচি, কাশি, থুতু বা সরাসরি শা’রীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে ক’রোনার বিস্তার ঘটাতে পারেন।

ইউসিএলএ’র স্কুল অব পাবলিক হেলথের প্রফেসর অ্যানি রিমোইন বলেন, ‘আপনি যখন কথা বলেন তখন কিছুটা হলেও থুতু ছিটান। আপনি নাক ঘষবেন, মুখ স্পর্শ করবেন, চোখ ডলবেন, তারপর অন্য পৃষ্ঠতল স্পর্শ করবেন। যদি আপনি আ’ক্রান্ত থাকেন, তবে সেখান থেকেই ভাই’রাস ছড়িয়ে দেবেন।’

৪। উপসর্গহীনরা কি কম সংক্রামক?

বি’ষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এটি নিয়ে আরও গ’বেষ’ণার দরকার।

তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া ত’থ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ডব্লিউএইচও বলছে, উপসর্গযুক্ত রো’গীদের চেয়ে উপসর্গহীনদের মাধ্যমে ক’রোনা সং’ক্র’মণের ঝুঁ’কি কম।

৫। নিজেকে রক্ষা করবেন কীভাবে?

ক’রোনাভা’ইরাসে থেকে বাঁচতে বারবার সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, ব্যবহার্য জিনিসপত্র জী’বাণুমুক্ত রাখা, ভিড়ের মধ্যে গেলে অবশ্যই মুখে মাস্ক পরাসহ যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া, কারও শ’রীরে উপসর্গ দেখা দিলে তার কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখা এবং অপরিষ্কার হাতে চোখ-মুখ স্পর্শ থেকেও বিরত থাকতে বলেছেন গবেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here