ক’রোনা পরীক্ষার টেস্ট না করেই রিপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্র’তারণা নিয়ে দেশে তোলপাড় চলছে। এই প্র’তারণার মূ’লহোতা জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফ চৌধুরী গ্রে’প্তার হয়েছেন নিজেকে রক্ষায় প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন সাবরিনা। চিকিৎসকদের একটি প্রভাবশালী সংগঠনের এক প্রভাবশালী নেতার বান্ধবী হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন,

ডা. সাবরিনা দায় থেকে রেহাই পেয়ে যাবেন। জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক’রোনার নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৪৬০ টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করে।

পু’লিশ জানিয়েছে, জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে ২৭ হাজার রো’গীকে ক’রোনা টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের ক’রোনার নমুনার আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল।

বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ রিপোর্ট প্রতিষ্ঠানটির ল্যাপটপে তৈরি করা হয়। জ’ব্দ করা ল্যাপটপে এর প্রমাণ মিলেছে। আরিফ চৌধুরীকে জি’জ্ঞাসাবাদে পু’লিশকে জানান, জেকেজির সাত-আট কর্মী ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করেন।

জেকেজির কার্যালয় থেকে ল্যাপটপসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জ’ব্দ করে পু’লিশ। এ ঘ’টনায় তেজগাঁও থানায় চারটি মা’মলা হয়েছে। এসব মা’মলার কোনোটিতে এখন পর্যন্ত ডা. সাবরিনার নাম সংযুক্ত করা হয়নি। চারটি মা’মলার ত’দন্ত করছে তেজগাঁও থানা পু’লিশ।

ক’রোনা ম’হামা’রিতে মানুষের জীবন নিয়ে নি’র্মম প্র’তারণায় নাম উঠে আসা ডা. সাবরিনা এ চৌধুরী স’রকারি একটি হাসপাতালে চাকরির পাশাপাশি জেকেজির চেয়ারম্যান। তিনি জাতীয় হৃদরো’গ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক। পাশাপাশি তিনি জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান। আর তাঁর স্বা’মী আরিফ চৌধুরী প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই দম্পতির জীবনও রূপকথার গল্পের মতো। আরিফের চতুর্থ স্ত্রী সাবরিনা। আরিফের এক স্ত্রী থাকেন রাশিয়ায়, অন্যজন লন্ডনে। আরেকজনের স’ঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তবে ছাড়াছাড়ির পরও সাবেক ওই স্ত্রী উচ্চমহলে আরিফের জন্য দেনদরবার করে যাচ্ছেন।

ত’দন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূ’লত সাবরিনার হাত ধরেই ক’রোনার স্যাম্পল কালেকশনের কাজটি ভাগিয়ে নেয় অনেকটা অখ্যাত জেকেজি নামে এই প্রতিষ্ঠান। প্রথমে তিতুমীর কলেজের মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার অন্য এলাকা এবং অনেক জে’লা থেকেও নমুনা সংগ্রহ করছিল তারা।

স্বা’মী-স্ত্রী মিলে ক’রোনা টেস্ট করলেও তাঁদের দাম্পত্য জীবন সু’খের নয়। স্ত্রীর স’ঙ্গে আ’পত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের এক চিকিৎসককে মা’রধর করেন আরিফ চৌধুরী। পরে এ ঘ’টনায় স্বা’মীর বি’রুদ্ধে শেরেবাংলানগর থানায় জি’ডি করেন ডা. সাবরিনা। এ ছাড়া জেকেজির এক কর্মীকে অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার ঘ’টনায় গুলশান থানায় আরিফ চৌধুরীর বি’রুদ্ধে মা’মলা রয়েছে। বিএমএর নেতার পরিচয় ভাঙিয়ে চলাফেরা করেন ডা. সাবরিনা।

জেকেজিতে চাকরি করতেন নার্স তানজিনা পাটোয়ারী ও তাঁর স্বা’মী হুমায়ূন কবির। তানজিনার বেতন ছিল ৩০ হাজার টাকা। ভুয়া ক’রোনা পরীক্ষা করে কোটি কোটি টাকা কামানো দেখে তানজিনা দাবি করেন, তাঁর বেতন বাড়িয়ে দিতে হবে। বি’ষয়টি জেকেজির কর্ণধার আরিফ চৌধুরী জেনে তানজিনা ও তাঁর স্বা’মীকে চাকরিচ্যুত করেন। পরে তাঁরা দুজন বাসায় বসে নিজেরাই ক’রোনার ভুয়া টেস্টের বাণিজ্য চালান।

তানজিনা নমুনা সংগ্রহ করতেন আর ঘরে বসে তাঁর স্বা’মী রিপোর্ট তৈরি করতেন। ২৩ জুন রাতে তানজিনা ও তাঁর স্বা’মী গ্রে’প্তার হওয়ার পর বেরিয়ে আসে জেকেজির প্র’তারণার র’হস্য। এরপর জেকেজির গুলশান অফিসে অ’ভিযান চা’লিয়ে গ্রে’প্তার করা হয় প্র’তারক আরিফ চৌধুরীসহ অন্যদের।

ওই দিনই প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মী আরিফকে ছাড়িয়ে নিতে তেজগাঁও থানায় জড়ো হন। তাঁরা থানার বাইরে হট্টগোল করতে থাকেন। এ ঘ’টনায় পৃথক একটি মা’মলা হয়েছে। ওই মা’মলায় ১৮ জনকে গ্রে’প্তার করেছে পু’লিশ।

জেকেজির স’ঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলে প্রমাণ করতে ২৪ জুন ভোর সোয়া ৫টায় নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লেখেন– অনেক আশা নিয়েই জেকেজি হেলথকেয়ার শুরু করেছিলাম বিনা মূ’ল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য! কোনো জিনিস প্রতিষ্ঠা করাই বড্ড কঠিন! অনেক ক’ষ্ট করেছি! ক’রোনা বিপর্যয় শুরু হওয়ার পর প্রথম এলাকাভিত্তিক স্যাম্পল কালেকশন শুরু হয়- কত মানুষের কত রকম বা’ধা! কোনো দোকান খোলা নেই, জিনিসপত্র নেই, কেউ ভ’য়ে ক’রোনা নিয়ে কাজ করতে চায় না! সব পেরিয়ে পথ চলা!

কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই আমাকে সরে আসতে হয়! যাঁরা আমাকে কাছ থেকে চেনেন, তাঁঁরা জানেন– আদর্শ আর ভালোবাসার কনফ্লিক্টে আমি সব সময় আদর্শকেই বেছে নিয়েছি! ৪-৬ তারিখেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার ল্যাবের অধ্যাপক তুষার স্যার এবং আমার কাছে যে কজন সাংবাদিক ভাই ও বোনের নম্বর ছিল তাঁদের জানিয়ে আমি সরে যাই এখান থেকে!

আমি চলে গেছি মানে এই নয় যে, এখানকার কোনো সমস্যায় আমি পুলকিত হব বা তা আমাকে ছোঁবে না! যদি কেউ দোষ করে থাকে, তার প্রমাণ সাপেক্ষে অবশ্যই সাজা হবে! হওয়াই উচিত! তবে আমার প্রশ্ন হলো– দু-্একজন কর্মচারীর নামে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটা প্রতিষ্ঠান যে এত দিন ধরে সেবা দিয়ে গেছে, সব মুহূর্তেই মিথ্যা হয়ে যাবে?

আমার বেশির ভাগ এফবি ফ্রেন্ড আমার জন্য উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন, ভরসা দিয়েছেন- তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা! যাঁরা চিরকালই আমার দোষ বের করতে পেরে বিমল আ’নন্দ পেয়েছেন, তাঁদের জন্য এই পোস্ট নয়…।

সাবরিনার পেশাগত দায়িত্বশীলতা সম্প’র্কে জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরো’গ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন শুক্রবার, সাবরিনার বি’ষয়টি হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাপরিচালককে ত’দন্ত করতে বলা হয়েছে।

এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের উপপু’লিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, মা’মলার ত’দন্ত চলছে। ডা. সাবরিনার বি’ষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি। তাঁর স্বা’মী আরিফ চৌধুরী স্বীকার করেছেন, সাবরিনা জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান। এর পরও ত’থ্য-প্রমাণ যাচাই করে দেখা হচ্ছে। সাবরিনা কেন, যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পরুনঃ

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে কোরবানির অনুপযুক্ত পশু বিক্রি বন্ধে মৎস্য ও প্রা’ণিসম্পদ ম’ন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রা’ণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

আজ শনিবার কোরবানির গবাদিপশু বিপণনের অনলাইন প্লাটফর্ম ‘ডিএনসিসি ডিজিটাল হাট’-এর উদ্বোধ’ন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাজধানীর বেইলী রোডস্থ স’রকারি বাসভবন থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে তিনি এ কথা জানান।

রেজাউল করিম বলেন, মৎস্য ও প্রা’ণিসম্পদ ম’ন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য থাকবে যাতে কোনভাবেই রো’গগ্রস্ত বা কোরবানির অনুপযুক্ত গবাদিপশু বিক্রি না হয়। আমরা ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম করে দিচ্ছি। তারা সেটা লক্ষ্য রাখবে।

গবাদিপশুর বাজারগুলোতে মেডিকেল টিম কাজ করবে, যাতে রুগ্ন পশু বাজারে আসতে না পারে। এ লক্ষ্যে ম’ন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিমও কাজ করবে।

তিনি বলেন, কোরবানির জন্য যে পরিমাণ গবাদিপশুর সরবরাহ দরকার তা দেশেই রয়েছে। আমরা বিদেশ থেকে একটা পশুও আম’দানি করবো না। দেশের খামারিরা চমৎকার গবাদিপশু উৎপাদন করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here