আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা নিজের হাত খরচের জন্য পিতা মাতার কাছ থেকে অর্থ চাইয়ে দ্বিধা করেন। পড়াশুনার পাশে অনলাইনে কিছু কাজ করে যদি তাতে উপার্জন করতে কেই বা না চায়। এতে না বাবা মায়ের কাছে হাত পাততে হবে, আর নিজের খরচ নিজেই টাকা থেকেই করা যাবে।

স্কুল বা কলেজ লাইফে আমাদের হাতে সময় প্রচুর থাকে কিন্তু যেটা থাকে না সেটা হল অর্থ। একটি নতুন স্মার্টফোন কেনা বা নিজের পছন্দসই পোশাক কেনা, নিজের টাকা থেকে কেনার মজায় কিছু আলাদা।

বর্তমানে এই বেড়ে চলা ইন্টারনেটের দুনিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি খুব সহজেই টাকা উপার্জন করা যায়। অনলাইনে টাকা উপার্জনের অনেক পথ আছে। যদিও স্টুডেন্টদের জন্য সব পথ জন্য উপযোগী নয়।

এরই মধ্যে কিছু সঠিক উপায় সম্প’র্কে আপনাদের জনাবো, যার মাধ্যমে আপনারা পড়াশুনা চা’লিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পকেট মানি, বা তার থেকেও বেশি উপার্জন করতে পারবেন। তাহলে দেখে নেয়া যাক।

আপনি যদি ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করেন, ক্রিকে’টের ভিডিও বানান। আপনি যদি কমেডি করতে ভালোবাসেন কমেডি ভিডিও বানান। শুরুর দিকে ফোন থেকেই কাজ শুরু করুন। সকলের ফোনেই এখন প্রতিদিন ১ জিবি বা ১.৫ জিবির অধিক ইন্টারনেট রয়েছে, সেটার সঠিক ব্যাবহার করে উপার্জন করতে পারেন।

Youtube এ গিয়ে আপনার Gmail একাউন্ট দ্বারা লগিন করে একটি ব্র্যান্ড চ্যানেল তৈরি করুন। চ্যানেলের জন্য একটি নাম দিন। চ্যানেলের লোগো, ব্যানার ইমেজ বানিয়ে সেট করুন। ভিডিও আপলোড করা শুরু করুন। যখন আপনার ৪০০০ ঘন্টা Watch time এবং ১০০০ সাবস্ক্রবার হবে, আপনি Youtube থেকে টাকা উপার্জন করা শুরু করতে পারবেন।

২. নিজের একটি ব্লগ বানান:
আপনি লেখালেখি করতে পছন্দ করেন? লেখা যে কোনো বি’ষয়ে হতে পারে তবে সেটা যেন মানুষের প্রতিদিনের জীবনে উপযোগী হয়। আপনি যে বিদয়ে ভালো জানেন সেই বি’ষয়ে আপনার ব্লগে লিখে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। অর্থনীতি হোক বা খাবার দাবারের রেসিপি, টেকনোলজি হোক বা প্রোডাক্ট রিভিউ। যে বি’ষয়ে লোক জানতে চায়, সে বি’ষয়ে আপনি ইন্টারনেটে লেখালেখি করে টাকা উপার্জন করতে পারবেন

ব্লগ কিভাবে বানাবেন ? দুটি উপায়ে আপনি ব্লগ বানাতে পারেন। একটি ফ্রি অন্যটিতে আপনাকে কিছু টাকা খরচ করতে হবে। আপনি নিজে বানাতে না পারলে Youtube এ সার্চ করে দেখে নিজে বানাতে পারেন।

আপনার কাছে ইনভেস্ট করার মত টাকা থাকলে একটি ডোমেন এবং হোস্টিং কিনে প্রফেশনাল ব্লগ বানাতে পারেন। কোনো টাকা খরচ না করতে চাইলে গুগল ব্লগারে ফ্রীতেই ব্লগ বানিয়ে লেখালিখি শুরু করতে পারেন। আপনার লেখা যখন লোকের কাছে পৌঁছে যাবে তখন ব্লগে গুগল এডসেন্স এর সাহায্যে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

৩. এফিলিয়েট মার্কেটিং:
এই কথাটির সাথে অনেকে পরিচিত আবার হয়ত বা অনেকে প্রথম বার নাম শুনছেন। এই ইন্টারনেটের যুগে অনেকে আছেন যারা এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছেন। আপনার কাছে যদি ফ্যান ফলোয়ার থাকে, সেটা ইনস্টাগ্রামে হোক বা আপনার YouTube এ, আপনার ফ্যানদের কাছে আপনি Amazon অথবা Flipkart এর প্রোডাক্ট এফিলিয়েট হিসাবে প্রমোট করতে পারেন।

আপনার মাধ্যমে যদি কেউ কোনো জিনিস কেনে, তার কিছু শতাং কমিশন হিসাবে ওই কোম্পানি আপনাকে দেবে। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য শুরুতে আপনার কাছে যথেষ্ট ফলোয়ার থাকতে হবে, যেটা সবার থাকে না। প্রথমে আপনি নিজের ফ্যান ফলোয়ার বানিয়ে পরে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা উপার্জন করতে করতে পারবেন।

৪. পেইড প্রমোশন:
বর্তমান সময়ে উপার্জনের একটি অন্যতম উপায় হল পেড প্রমোশন বা ব্র্যান্ড প্রমোশন। আপনি হয়ত দেখে থাকবেন বড় বড় সেলিব্রেটি দিয়ে কোম্পানি বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। Youtube এও কোম্পানি ডাইরেক্ট পেড প্রমোশোন করে। যার জন্য ইন্টারনেট দুনিয়া আপনার ফলোয়ার গড়তে হবে। যেটি হয়ত রাতারাতি হবে না, তবে পরিশ্রম করলে একদিন না একদিন নিশ্চই হবে।

আপনার কাছে ফলোয়ার অথবা সাবস্ক্রাইবার থাকলে, নামিদামি ব্র্যান্ড আপনার সাথে যোগাযোগ করে স্পনসর করবে। যার মাধ্যমে অনেক টাকা উপার্জন করা যায়। ইন্টারনেট থেকে টাকা উপার্জনের হাজারো রাস্তা আছে, যার জন্য লাগবে পরিশ্রম আর ডেডিকেশন। হাজারও উপাইয়ের মধ্যে এই তিনটি টবথেকে বেশি জনপ্রিয় পদ্ধতি।

পড়াশোনার পাশাপাশি সময় ন’ষ্ট না করে আপনিও এই কাজ করতে পারেন। শুধু হাত খরচ নয়, যদি আপনার বানানো কন্টেন্ট পাবলিকের মনে ধরে যায়, সকলে পছন্দ করতে শুরু করে তবে আপনি সেই বি’ষয়ে নিজের কেরিয়ারও বানাতে পারেন।

আমাদের এই আর্টিকেল আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানান। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন আমরা উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here