স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস থেকেই বারবার মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁ’সের ঘ’টনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পু’লিশের অ’পরাধ ত’দন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বি’ষয়টি নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ত’থ্য জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, স’রকারি মেডিকেল, ডেন্টাল, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁ’সের ঘ’টনায় চ’ক্রের মূ’ল হােতাসহ চারজনকে গ্রে’ফতার করেছে সাইবার পু’লিশ। গ্রে’ফতাররা হলেন- জসিম উদ্দিন ভুইয়া মুন্না, পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু ও সামিউল জাফর সিটু।

গত ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রে’ফতার করা হয়। এ সময়ে প্রশ্ন ফাঁ’স চ’ক্রের মূ’ল হোতা জসিমের কাছ থেকে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উ’দ্ধার করে সিআইডি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব ত’থ্য জানান সিআইডির সাইবার ক্রা’ইমের সিনিয়র সহকারী পু’লিশ সুপার (এএসপি) সুমন কুমার দাস। এ সময় সেখানে সাইবার ক্রা’ইমের ডিআইজি মো. শাহ আলমসহ সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছরের ১৯ জুলাই এস এম সানোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রে’প্তার করা হয়। তিনি ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁ’সের চাঞ্চল্যকর সব ত’থ্য দেয় বলে জানিয়েছে সিআইডির এই কর্মকর্তা।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই ব্যক্তির দেওয়া ত’থ্যের ভিত্তিতে সিপিসির পু’লিশ সুপার আশরাফুল ইসলামের তত্ত্বাবধায়নে একটি দল মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অ’ভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন ভুইয়া মুন্না,

পারভেজ খান ও জাকির হাসান দিপুকে গ্রে’প্তার করে। আ’সামিরা একটি সংঘবদ্ধ চ’ক্র হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছাপাখানা থেকে মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করতেন।’

সুমন কুমার দাস বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকেই মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বারবার ফাঁ’স হয়েছে। প্রেসের মেশিনম্যান সালাম এবং তার খালাতো ভাই জসিম মিলে দেশব্যাপী একটি চ’ক্র গড়ে তুলেছিলেন।

চ’ক্রটির মাধ্যমে শত শত শিক্ষার্থী টাকার জো’রে মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে পুরো চ’ক্রটিকে চিহ্নিত করেছে সিআইডির ত’দন্তকারী দল।’

সংবাদ সম্মেলনে সাইবার ক্রা’ইমের ডিআইজি মো. শাহ আলমসহ সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি আরও জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ক্ষ’মতাবান কর্তাদের ম’দদে প্রেস থেকে বহু বছর ধরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁ’স করতেন মেশিনম্যান আবদুস সালাম।

তার খালাতো ভাই জসিমের কাজ ছিল সারা দেশে প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়া। এ জন্য একটি শ’ক্তিশালী নেটওয়ার্ক ছিল তার। দেশব্যাপী চ’ক্রটির প্রায় অর্ধশত সহযোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here