গত ৩১ জুলাই রাতে সিনহা নি’হত হওয়ার পর থেকে সমালোচনায় রয়েছেন ওসি প্রদীপ। ওই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পু’লিশের গু’লিতে নি’হত হন সে’নাবা’হিনীর অবসরপ্রা’প্ত মেজর সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খান।

অবসরপ্রা’প্ত সে’না কর্মকর্তা সিনহা ভ্রমণ বি’ষয়ক একটি ত’থ্যচিত্র নির্মাণের জন্য কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। রাতে এক স’ঙ্গীকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি।

ঘ’টনাস্থল থেকে অ’স্ত্র ও মা’দক উ’দ্ধারের কথা জানিয়ে সে সময় পু’লিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লা’শিতে বা’ধা দেন’। পরে ‘পি’স্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পু’লিশ তাকে গু’লি করে। এই ঘ’টনায় পু’লিশ মা’মলাও করে।

এদিকে সিনহাকে হ’ত্যা করা হয়েছে দাবি করে বুধবারই কক্সবাজারের আ’দালতে মা’মলা করেন তার বোন শারমিন।

আ’দালতের বিচারক তামান্না ফারাহ মা’মলাটি আমলে নিয়ে সেটি টেকনাফ থানায় নিয়মিত মা’মলা হিসেবে রেকর্ড করতে নির্দেশ দেন। সেই স’ঙ্গে তিনি হ’ত্যা মা’মলাটি ত’দন্তের জন্য কক্সবাজারের র‌্যা’ব-১৫-কে দায়িত্ব দিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

মা’মলার এজাহারে সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস অভিযোগ করেন, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের নির্দেশে পু’লিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী তাঁর ভাইকে গু’লি করে হ’ত্যা করেন।

বা’দী উল্লেখ করেন যে ঘ’টনার কিছুক্ষণ পর ওসি প্রদীপ কুমার দাস ঘ’টনাস্থলে আসেন। তিনি এসেই তখনো জীবিত থাকা সিনহাকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং তাঁর শ’রীরে লা’থি মা’রেন। মৃ’ত্যু নিশ্চিত হলে একটি ‘ছারপোকা গাড়িতে’ তুলে সিনহাকে কক্সবাজার জে’লা সদর হাসপাতালের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

মা’মলার অন্য আ’সামিরা হলেন-বাহারছড়া ত’দন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্ম’দ মোস্তফা।

মা’মলার এজাহারে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিও চিত্র ধারণ শেষে ৩১ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অবসরপ্রা’প্ত মেজর সিনহা নিজস্ব প্রাইভেট কার নিয়ে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজার আসছিলেন। বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর বাজারসংলগ্ন পু’লিশ ত’দন্ত কেন্দ্রে পৌঁছলে ১ নম্বর আ’সামি লিয়াকত ও ৩ নম্বর আ’সামি এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত গাড়ি থামান।

এসময় সিনহা নিজের পরিচয় দেন। এর পরও সিনহার স’ঙ্গে থাকা ক্যামেরাম্যান সিফাতকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলা হয়। সিফাত দুই হাত উঁচু করা অবস্থায় গাড়িতে বসে থাকা সিনহার পরিচয় দেন। পরিচয় দেয়ার পরও পু’লিশ অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।

একপর্যায়ে পরিদর্শক লিয়াকত হুংকার ছেড়ে ‘তোর মতো বহুত মেজরকে আমি দেখেছি, এইবার খেলা দেখামু’ বলে সিনহাকেও গাড়ি থেকে নামিয়ে ফে’লেন।

এরপর পরিদর্শক লিয়াকত ওসি প্রদীপের স’ঙ্গে মোবাইল ফোনে শেষ কথা বলেন—‘ঠিক আছে, শালাকেও শেষ করে দিচ্ছি।’ মুহূর্তে পরিদর্শক লিয়াকত কয়েক রাউন্ড গু’লি করলে সিনহা মাটিতে পড়ে যান। এসময় সিনহা জীবন রক্ষার্থে পা’লিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পু’লিশ সদস্যরা তাঁকে চে’পে ধরে আবার মাটিতে ফে’লে দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘পরে আমার ভাইয়ের শ’রীরে ও মুখে বিভিন্ন জায়গায় লা’থি মে’রে তার মুখও বিকৃত করার চেষ্টা করে তারা। এসময় অন্য আ’সামিরা তাদের সহযোগিতা করে।’ তাই তিনি আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন।

মা’মলাটি দা’য়েরের ক্ষেত্রে আইনগত সহযোগিতায় ছিলেন কক্সবাজারের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্ম’দ মোস্তফাসহ আরো কয়েকজন। মা’মলায় ১ নম্বর আ’সামি করা হয়েছে লিয়াকতকে, ২ নম্বর আ’সামি ওসি প্রদীপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here