৭ বছর আগের একটা ভু’লের ভ’য়াবহ মাসুল গুনতে হল লেবাননের রাজধানী বৈরুতকে। ২০১৩ সালে যদি রাসায়নিক বোঝাই রাশিয়ান কার্গো জাহাজ বৈরুত বন্দরে অনাকাঙ্খিত ভাবে এসে না ভিড়ত, তাহলে আজ এই চ’রম বিপর্যয় ঘটত না। বৈরুত বি’স্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে এমনই বিস্ময়কর ত’থ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন ত’দন্তকারীরা।

২০১৩ সালে বৈরুত বন্দরে ভেড়া ওই জাহাজটির নাম রোসাস। তার ক্যাপ্টেন বরিস প্রোকোশেভ জানিয়েছেন, ‘সেদিনের লোভের জন্যই আজ এমন ঘ’টনা ঘটল।’ তার দাবি, অতিরিক্ত মাল সংগ্রহ করার জন্য লেবাননে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাদের। ২৭৫০ টন বি’স্ফোরক রাসায়নিক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে জর্জিয়া থেকে মোজাম্বিক যাচ্ছিল রোসাস।

আচমকাই নির্দেশ আসে, জাহাজের মুখ ঘুরিয়ে বৈরুত বন্দরে ভেড়াতে হবে। কারণ সেখান থেকে কিছু রাস্তা নির্মাণের সামগ্রী সংগ্রহ করে, মোজাম্বিক যাওয়ার পথে জর্ডনের আকাবা বন্দরে নামাতে হবে তাদের। মোজাম্বিকে পৌঁছনোর কথা ছিল ওই বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট।

অপরিকল্পিত ভাবে জাহাজ ভিড়িয়ে সমস্যা তৈরি করে বৈরুত বন্দর। কারণ সেখান থেকে সামগ্রী সংগ্রহ করা নিয়ে আইনি জটিলতার মুখে পড়ে জাহাজটি। শেষমেশ বৈরুত বন্দরেই আ’টকা পড়ে যায় রোসাস!

পরে জানা যায়, জাহাজ থেকে ওই বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নামানো হয়। রাখা হয় বন্দরের ১২ নম্বর হ্যাঙ্গারে। সেই হ্যাঙ্গারটি মূ’ল শহরে ঢোকার জন্য ব্যস্ততম সড়কের ঠিক ধারেই অবস্থিত। সমস্ত মাল নামানোর পরে ফিরিয়ে দেওয়া হয় জাহাজটি।

এর পরের বছর, ২০১৪ সালের ২৭ জুন লেবানন কাস্টমসের পরিচালক শাফিক মেরহি এই বি’ষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য রাশিয়ার কার্গো কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠান। এর পরের তিন বছরে আরো পাঁচ’টি চিঠি দেওয়া হয়।

মূ’লত তিনটি প্রস্তাব দেওয়া হয় এই কার্গো জাহাজের মালিকের কাছে। প্রস্তাবগুলো হল, ১. নাইট্রেট সরিয়ে নেওয়া, ২. লেবাননের সে’নাবা’হিনীর কাছে পুরোটা হস্তান্তর করা, ৩. লেবাননের বেস’রকারি বি’স্ফোরক কম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া।

অভিযোগ, এই চিঠিগুলোর কোনো জবাব আসেনি কখনো। শেষমেশ ওই হ্যাঙ্গারেই থেকে যায় পুরো রাসায়নিকের স্তূপ। ৬ মাস আগেও বন্দরের গুদামের সেই ১২ নম্বর হ্যাঙ্গার পরিদর্শন করে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, কার্যত ‘ভাসমান বো’মা’ মজুত করা রয়েছে বৈরুতে। এটা যদি সরিয়ে না নেওয়া হলে পুরো বৈরুত শহর উড়ে যেতে পারে।

শেষমেশ সেটাই হল। গত মঙ্গলবার, সেই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ হওয়ার সাত বছর পরে ঘটে গেল ভ’য়াবহ দু’র্ঘ’টনা। আ’গুন লেগে গেল বিপুল পরিমাণ ‘ভাসমান বো’মা’য়। ফলস্বরূপ ছারখার হয়ে গেল গোটা এলাকা।

অন্তত ১৫০ জন প্রা’ণ হারালেন, আ’হত হলেন ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষ গৃহহারা। ধসে পড়েছে বড় বড় বহুতল ভবন। বৈরুতের বন্দর এলাকা ছিন্নভিন্ন করে দিল সাত বছর আগের একটি ভু’ল পদক্ষেপ।

গোটা ঘ’টনা সামনে আসার পরে কার্যত ক্ষো’ভে ফুঁসছে বৈরুতবাসী। কোনো প্রাকৃতিক দু’র্যোগ নয়, কোন বিদেশী হা’মলাও নয়। শুধুমাত্র প্রশাসনের চূড়ান্ত একটা গাফিলতির কারণে বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম ভ’য়ংকর দু’র্ঘ’টনা ঘটে গেল বৈরুতে। এর ফলে স’রকারের ও’পরে ক্ষো’ভ বাড়ছে লেবানিজদের। র’ক্তের দাগ না শুকাতেই স’রকারের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় বি’ক্ষো’ভে নেমেছে তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here