বাংলাদেশ সে’নাবা’হিনীর অবসরপ্রা’প্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হ’ত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশপ্রে’মিক সে’নাবা’হিনী ও পু’লিশবাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর ‘অ’পচেষ্টা’ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল। নিজেদের মিশন বাস্তবায়নে বিদেশ থেকেও প্রতিনিয়তই ছড়ানো হচ্ছিল নানামুখী গুজব।

পর্দার অন্তরাল থেকে কলকাঠি নেড়ে ষ’ড়যন্ত্রমূ’লক কর্মকাণ্ডের সূক্ষ্ম পরিকল্পনার জালও বোনা হয়েছিল। কিন্তু সব প্রচেষ্টাই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত হালে পানি পায়নি ‘টেকনাফ ষ’ড়যন্ত্র’। বি’স্ফোরণমুখ পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।

উল্টো হ’ত্যাকাণ্ডে জ’ড়িতদের বি’রুদ্ধে মা’মলা, প্রাথমিক শা’স্তি হিসেবে তাৎক্ষণিক জ’ড়িতদের প্রত্যাহার, গ্রে’প্তারি পরোয়ানা ও আইনের আওতায় আনা, উচ্চ ক্ষ’মতাসম্পন্ন যৌথ ত’দন্তকমিটি গঠন, সিনহার মায়ের স’ঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ— সবকিছুই চলেছে সমানতালে।

সে’নাপ্রধান ও পু’লিশপ্রধানের ঘ’টনাস্থল পরিদর্শন করে নিজ নিজ বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান, ত’দন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ’তা বজায় রাখতে যৌথ টহলের সি’দ্ধান্ত বাস্তবায়ন— এসবই মূ’লত ভে’ঙে দিয়েছে ষ’ড়যন্ত্রকারী অশুভ শ’ক্তির ‘বি’ষদাঁত’।কঠিন এসবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ সি’দ্ধান্ত ও দূরদর্শী দিকনির্দেশনায়।

দাবার পাশা উল্টে ষ’ড়যন্ত্রকারীদের নিশ্চিহ্ন করার পাশাপাশি কাগজে-কলমেও মোক্ষম এক জবাবও দিয়েছেন দেশপ্রে’মিক দুই বাহিনীর দুই প্রধান।

ছুঁতোয় বিলীন হওয়ার নয় সে’না-পু’লিশ সম্প’র্ক
বিশ্লেষকরা বলছেন, মহান মুক্তিযু’দ্ধের সুমহান প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা সে’নাবা’হিনী ও পু’লিশের দীর্ঘ ৫০ বছরের শেকড়ের সম্প’র্ক একটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দু:খজনক ও দুর্ভাগ্যজনক ঘ’টনার ছুঁতোয় বিলীন হওয়ার নয় মোটেও। সেই বি’ষয়টিরই ইঙ্গিত দিয়েছেন সে’নাপ্রধান ও পু’লিশপ্রধান।

নিজেদের নেতৃত্বাধীন দেশপ্রে’মিক দুটি বাহিনীর সম্প’র্ক যে অটুট বন্ধ’নে তৈরি, রাষ্ট্রবি’রোধী প্রতিটি কর্মকাণ্ডে প্র’তিবাদ-প্রতিরোধের অগ্নিশিখা ভে’তরে জ্বা’লিয়ে সব মলিনতা মুছে মাটির টানে, শেকড়ের সন্ধানেই তাদের পথচলা— এসব বি’ষয়ও নিশ্চিত করেছেন দুই বাহিনীর দুই প্রধান।

গত বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের সে’নাবা’হিনীর বাংলো জলতরঙ্গে সে’নাপ্রধান ও পু’লিশপ্রধানের যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘ’টনাকে পুঁজি করে কেউ যেন পু’লিশ ও সে’নাবা’হিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা না করে- সেই সম্প’র্কে সবিশেষ গুরুত্বপূূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন জেনারেল আজিজ আহমেদ ও ড. বেনজীর আহমেদ।

তাদের সেই বক্তব্য জনমনে প্রশংসিতও হয়েছে। দেশের স্বাধীনতার ৪৯ বছরের মাথায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সে’নাবা’হিনী ও পু’লিশবাহিনীর প্রধানদের এই যৌথ সংবাদ সম্মেলনকে দেশের সাধারণ ও সচেতন মানুষ অনেক ইতিবাচক এবং তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন।

সে’নাবা’হিনী ও পু’লিশের পক্ষ থেকেও বেশ জো’র দিয়েই বলা হয়েছে, অবসরপ্রা’প্ত মেজর সিনহার ঘ’টনাটিই যেন দেশের ইতিহাসে দুই বাহিনীর শেষ ঘ’টনা হয়। ভবি’ষ্যতে যেন এরকম ঘ’টনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে লক্ষ্যেই নিজেদের ভাতৃত্বের বন্ধ’ন আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বুধবার দুপুরে দুই বাহিনীর প্রধানদের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাবেক সে’না কর্মকর্তা সিনহার ঘ’টনার মাধ্যমে ষ’ড়যন্ত্রকারীরা নৈরাজ্য সৃষ্টির মতোই ভ’য়াবহ নীল নকশার ছক প্রস্তুত করেছিল। চোখ-কান তীক্ষভাবে খোলা রাখলে এর কিছু আলামতও খুঁজে পাওয়া যায়।

এসব ষ’ড়যন্ত্রের ছক সাজানো হয় প্ল্যান-এ থেকে শুরু করে প্ল্যান-সি পর্যন্ত। এ তিনটি পরিকল্পনার ছক তারা এমনভাবে কষেছে যে, যদি প্রথম পরিকল্পনা তথা প্ল্যান-এ কার্যকর না হয়, তাহলে প্ল্যান-বি ধরে এগোবে। এভাবে তৃতীয় পরিকল্পনাও তারা সাজিয়ে রেখেছিল। উদ্দেশ্য স’রকারকে মরণকামড় দেয়া।

গোটা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য হচ্ছে— এ হ’ত্যাকাণ্ডকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাশাপাশি সুযোগ সন্ধানী মহলটি নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়ানো ও ধারাবাহিক উসকানিও দিচ্ছিল।

‘বাচাল’ নূরকে অ্যাসাইনমেন্ট
দেশের ভে’তর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কূটকৌশল হিসেবে ‘বাচাল’ নূরকে ‘বক্তৃতাবাজি’ করতে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হয়। ‘নিধিরাম সর্দার’ নূরও বুঝে না বুঝেই গরম গরম কথা বলে নিজেকে হাসির খোরাকে পরিণত করেন।

এজন্যই তারা পরিকল্পিতভাবেই সে’না-পু’লিশের ‘কল্পিত বি’রোধ’ সামনে এনে নানামুখী গুজব ছড়িয়ে স’রকারকে বিপাকে ফেলতেই আঁটঘাট বেঁ’ধে মাঠে নেমে পড়ে। গুজব ও মিথ্যা ত’থ্যের ভিত্তিতে দেশের মতো বিদেশেও স’রকারবি’রোধী বিদেশি মহলকে ক্ষেপিয়ে তুলতেও ‘ছক’ কষা হয়।

পর্যবেক্ষক মহলটি আরও বলছেন, দেশবি’রোধী ষ’ড়যন্ত্রকারীরা কখনো অবসরপ্রা’প্ত সে’না কর্মকর্তা চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী আবার কখনো সুইডেনে প’লাতক ‘ফরমায়েশী রাইটার’ বা জার্নালিজমের অপচর্চা করা কুশীলবদেরও ব্যবহার করে প্রায়শই ‘খিস্তিখেউর’ করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু মতলববাজদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায় তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের সাধারণ মানুষ।

কেউ কেউ বলছেন, দেশে যখনই কোনো ঘ’টনা ঘটে, তখন সেই ঘ’টনাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয় যেন তা স’রকারের বি’রুদ্ধে যায়, যেন তাতে স’রকার চা’পে পড়ে। হোক তা ক’রোনা, হোক তা গণমাধ্যমকর্মী গ্রে’প্তারের ঘ’টনা কিংবা সিনহার মতো একটি হ’ত্যাকাণ্ড।

স’রকার পক্ষের কেউ কেউ বলছেন, শো’কের মাস আগস্ট ঘিরে প্রতি বছরই নানা ষ’ড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়। স’রকার উৎখাতের চ’ক্রান্তে তৎপর হয় অশুভ শ’ক্তি। এ চ’ক্রটি শো’কের মাস আগস্টকে বারবার বেছে নিচ্ছে।

সূত্র মতে, একটি মহল সবসময় ওঁৎ পেতে থাকে যে, কখন একটি ঘ’টনাকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে, ঘোলা পানিতে মাছ শি’কার করা যাবে। অতীতের মতোই এমন প্রবণতা সিনহা হ’ত্যাকাণ্ডের বেলায়ও শুরু করেছিল চ’ক্রটি।

স্পষ্ট লক্ষণীয়, একাত্তরের পরাজয়ের প্র’তিশোধ স্পৃহায় তারা ফুঁসছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে স্বাধীনতাবি’রোধীদের শ’ক্তিশালী নেটওয়ার্কের নানামুখী প্রপাগান্ডা এসব অপতৎপরতারই বহি:প্রকাশ।

অ’পচেষ্টা সফল হতে দেননি সে’নাপ্রধান ও পু’লিশপ্রধান
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, স্বাধীনতাবি’রোধী মহলটি দুই বাহিনীকে মুখোমুখি করতেই এক অকল্পনীয় ও দুর্ভাগ্যজনক ঘ’টনায় গুজব ছড়ানোর চেষ্টা চা’লিয়ে সফল হতে পারেনি। সে’নাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পু’লিশপ্রধান ড. বেনজীর আহমেদ চ’ক্রটির এ ‘খোয়াব’ অঙ্কুরেই বিন’ষ্ট করে দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, সাবেক সে’না কর্মকর্তা সিনহা হ’ত্যাকাণ্ডকে ঘিরে চিহ্নিত চ’ক্রটি দুই বাহিনীর মধ্যকার আস্থা ও বিশ্বাসের সম্প’র্কে চিড় ধরাতেই নানা রকম ‘নাটক’ মঞ্চস্থ করেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যেই স্ব’রা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের যৌথ ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই এ ত’দন্ত কার্যক্রমও পুরোদমে শুরু হয়েছে। পুরো ত’দন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ’তা নিশ্চিতে গত বুধবার সে’নাবা’হিনীপ্রধান ও পু’লিশের আইজি সরেজমিন ঘ’টনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিজ নিজ বাহিনীর স্থানীয় কর্মকর্তাদের স’ঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তারা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করেছেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সে’নাবা’হিনীপ্রধান ও পু’লিশের আইজি উভ’য়ই এ ঘ’টনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দায়ভার বাহিনী নেবে না বলে উল্লেখ করেছেন।

এ ঘ’টনায় দুই বাহিনীর দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সুসম্প’র্কে চিড় ধরবে না। সুষ্ঠু ত’দন্ত এবং সুবিচারের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে ও সুষ্ঠু ত’দন্তকাজে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা হবে না এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ত’দন্ত পরিচালিত হবে।

সূত্র মতে, দুই বাহিনীর দুই প্রধানের ক’ঠোর নির্দেশনা ও ত’দন্তে নিরপেক্ষ’তার প্রমাণও মিলতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই অবসরপ্রা’প্ত মেজর সিনহার বোনের দা’য়ের করা মা’মলায় গ্রে’প্তারি পরোয়ানা জারির পর প্রধান আ’সামি বাহারছড়া পু’লিশ ত’দন্তকেন্দ্রের আইসি মো. লিয়াকত, টেকনাফ থানার প্রত্যাহার হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ সাত পু’লিশ সদস্য আ’দালতে আত্মসমর্পণ করেন।

আ’দালত তাদের জা’মিন নামঞ্জুর করে কা’রাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ওসি প্রদীপসহ ৭ আ’সামির ৭ দিন করে রি’মান্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

একই সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভসহ পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সে’নাবা’হিনী ও পু’লিশের যৌথ টহল পরিচালনা শুরু হয়েছে। সে’নাপ্রধান ও পু’লিশপ্রধানের যৌথ নির্দেশনায় এ যৌথ টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ঘ’টনার সুষ্ঠু ত’দন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূ’লক শা’স্তি দুই বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান আস্থা আরও গভীর ও সুদৃঢ় করবে বলেই মত দিয়েছেন সে’নাপ্রধান ও পু’লিশপ্রধান। আর সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ ত’দন্তের আশ্বাস দিয়েছেন র্যাপিড অ্যা’কশন ব্যা’টালিয়নও (র্যাব)।

সিনহা হ’ত্যাকাণ্ডের ঘ’টনায় স্ব’রা’ষ্ট্র ম’ন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ গঠিত ত’দন্ত কমিটির কার্যক্রম কর্মপরিকল্পা অনুযায়ী এগোচ্ছে বলে গতকাল শনিবার জানিয়েছেন কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. মিজানুর রহমান।

ত’দন্ত দলের প্রধান এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রথম বৈঠকেই কিছু কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছি। আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি, আসল সত্যটা বেরিয়ে আসুক। আশা করছি স’রকারের নির্ধারিত সাত কর্ম’দিবসের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here