জানা-অজানা ডেস্কঃ না’রীদের জন্য একটি ভ’য়াবহ ব্যাধি জরায়ু মুখ ক্যানসার। এটি বিশ্বব্যাপী না’রীদের মৃ’ত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এ রো’গ সাধারণত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের না’রীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। জরায়ুর ক্যা’ন্সার যা গ’র্ভাশয় ক্যা’ন্সার নামেও পরিচিত।

ক্যানসারের লক্ষণ প্রকাশের অনেক আগেই না’রী এ রো’গের ভাই’রাস দ্বারা আ’ক্রান্ত হন। তবে সচেতনতার মাধ্যমে এই রো’গ প্রতিরোধ করা যায়।

অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের না’রীরা স্বাস্থ্য সচেতন নয় বলেই এ রো’গের বিস্তার বেশি। উন্নত দেশের না’রীরা সচেতন ও উন্নত জীবনযাপনের কারণে এই রো’গ থেকে নিরাপদ।

জরায়ু মুখ ক্যানসার শনাক্ত করার জন্য ‘পেপস স্মেয়ার টেস্ট’ রয়েছে, যা উন্নত দেশের না’রীরা দ্বিধাহীন ভাবে গ্রহণ করতে পারেন, কিন্তু অনুন্নত দেশে গ্রহণ করতে অনেক পারিবারিক ও সামাজিক বা’ধা রয়েছে।

সং’ক্র’মণের এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জরায়ু মুখের স্বাভাবিক কোষ পরিবর্তিত হতে থাকে এবং একসময় তা ক্যানসারে রূপ নেয়। এইচপিভি-১৬, এইচপিভি-১৮, ভাই’রাস সবচেয়ে বেশি ঝুঁ’কিপূর্ণ।

স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত না’রীদের জরায়ু এইচপি ভাই’রাস দ্বারা আ’ক্রান্ত হতে পারে। এতে তেমন কোনও উপসর্গ থাকে না বা শা’রীরিক পরীক্ষায় কোনও চিহ্ন বা ক্ষ’ত পাওয়া যায় না।

এর জন্য কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন নেই। শ’রীরের রো’গ প্রতিরোধক্ষ’মতা বলে ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে জরায়ু মুখ প্রায় সব এইচপিভি ভাই’রাস থেকে মুক্ত হয়ে যায়। এই ভাই’রাস সং’ক্র’মণ দীর্ঘ দিন স্থায়ী হলে, জরায়ু মুখ কোষে পরিবর্তনের সূত্রপাত হয় এবং ধীরে ধীরে তা ক্যানসারের রূপ নেয়।

কাদের হয়?

২০ বছরের কম বয়সীদের এ রো’গ সাধারণত হয় না। আ’ক্রান্তেরা সাধারণত ৩৮ থেকে ৪২ বছর বয়সী হয়ে থাকেন। ৬০ বছরের পরও এ রো’গ হতে পারে, তবে সংখ্যা তুলনামূ’লক কম।

তবে ক্যানসার মানেই মৃ’ত্যু এমন ভু’ল ধারণা প্রচলিত আছে। আর বিশেষ করে ম’হিলারা এই রো’গকে গো’পন করার ফলে অনেক সময় বি’পদ বাড়ে। উপযুক্ত চিকিৎসায় জরায়ু মুখ ক্যানসারের পুরোপুরি আরো’গ্য সম্ভব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই রো’গ খুব সহজেই এড়ানো যায়।

লক্ষণ–

জরায়ুর বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই অংশে ক্যানসারের আ’শঙ্কা সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত সাদাস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, অতিরিক্ত অথবা অনি’য়মিত র’ক্তস্রাব, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় র’ক্তপাত, কোমর ও তলপেট বা উরুতে ব্য’থা ইত্যাদি উপসর্গগুলো জরায়ু মুখ ক্যানসার এর লক্ষণ।

অল্পবয়সেই যারা যৌ’নাচারে অভ্যস্ত হয়ে থাকে তাদের এই ক্যানসার হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। একাধিক পুরু’ষ স’ঙ্গী থাকা, বা পুরু’ষ স’ঙ্গীটির একাধিক না’রী স’ঙ্গী থাকা কিংবা ঘন ঘন বাচ্চা নেওয়া ইত্যাদি কারণেও জরায়ু মুখ ক্যানসার হতে পারে। বাল্যবিবাহ হওয়া মেয়েদের এই রো’গ হবার সম্ভাবনা বেশি।

প্রাথমিক ভাবে করণীয় কী?

পেপস স্মেয়ার টেস্ট এই ধরনের ক্যানসার শনাক্তকরণের একটি সহজ পরীক্ষা। জরায়ুমুখ থেকে রস নিয়ে পরীক্ষা করে ক্যানসার, ক্যানসার হওয়ার আগের অবস্থা ও জরায়ুমুখের অন্য রো’গ —যেমন প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) শনাক্ত করা যায়।

এটি একটি ব্য’থামুক্ত ও সাশ্রয়ী পরীক্ষা পদ্ধতি। সাধারণত বিবা’হিত না’রীদের ২১ বছরের পর থেকে এ পরীক্ষা শুরু করা যেতে পারে এবং প্রতি বছরে এক বার পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

৩০ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত, যাদের ফলাফল তিন বার ‘স্বাভাবিক’ এসেছে, তাঁদের প্রতি তিন বছর পর পর এই পরীক্ষা করা উচিত। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে এ রুটিনের পরিবর্তন হতে পারে।

ও’ষুধ ছাড়া যেভাবে এই ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়-

ঔষধি প্রতিরোধকের চেয়ে আচরণগত প্রতিরোধকের দিকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করে থাকি। যেমন বাল্যবিবাহ রোধ, অধিক স’ন্তান প্রসব এবং ঘন ঘন স’ন্তান প্রসব, ধুমপান করা (এমনকি পরোক্ষ ধূমপানের স্বীকার হওয়া) আর সুষম খাবার গ্রহণ,

দৈনিক ভিটামিন (A, C, E, ফলিক অ্যাসিড) সমৃদ্ধ ফল, শাকসব্জি, তরকারি খাওয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত, সুশৃঙ্খল জীবন যাপন ও সামাজিক অনুশাসন মান্য করা এই রো’গ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর পাশাপাশি না’রীর নি’য়মিত পেপস স্মেয়ার টেস্টে অংশ নেওয়া উচিত, তাতে রো’গ আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

অপরিচ্ছন্নতা এই ক্যানসারের জন্য কতটা দায়ী?

অপরিচ্ছন্নতা এই ক্যানসারের জন্য অনেকটাই দায়ী। বলা যেতে পারে প্রায় বন্ধুর মত করে ডেকে আনে এই ক্যানসারকে। গ্রামাঞ্চলে অনেক এটাকে বংশগত বলে অনেকে মনে করলেও এই ক্যানসারের স’ঙ্গে বংশগত কোনও সম্প’র্ক নেই। স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং জননা’ঙ্গের অপরিচ্ছন্ন অবস্থার ফলেই আমাদের দেশে এই রো’গের বাড়বাড়ন্ত লক্ষ করা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here