ইয়াসমিন জুঁই (২৫)। চলতি বছর রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ থেকে স্নাতক (পাস কোর্স) সম্পন্ন করেছেন তিনি। লেখাপড়ার সুবাদে থাকেন রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় একটি ছাত্রী হোস্টেলে। সেখানে থেকেই স্বল্প বেতনে বেস’রকারি একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকুরি করছেন।

গত ০৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল আসে তার মুঠোফোনে। নিজেকে শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কথা শুরু হলেও একপর্যায়ে উপবৃত্তি দেওয়ার কথা বলে তেজগাঁও কলেজের নাম ভাঙিয়ে অভিনব কায়দায় বিকাশ থেকে হাতিয়ে নেয় তার প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা।

শুধু ইয়াসমিন জুঁই একা নয়। ক’রোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্র’তারকদের পাতা রেশমি জালে একইভাবে ধরা পড়েন প্রতিষ্ঠানটির (২০১৫-১৬) শিক্ষাবর্ষের সরলমনা বেশ কয়েকজন বৃত্তিপ্রা’প্ত শিক্ষার্থী। যাদের বেশীরভাগই এখন গ্রামে অবস্থান করছেন।

গত এক সপ্তাহে তেজগাঁও কলেজের নাম ভাঙিয়ে একই নম্বর থেকে যারা ফোনকল পেয়েছেন, তাদের মধ্যে থেকে অন্তত ৮জন শিক্ষার্থীর সাথে মুঠোফোনে কথা হয়েছে সময়ের কণ্ঠস্বরের।

তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে এ ঘ’টনায় তিন সদস্যের একটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্র’তারক যারাই হোক, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য দ্রু’ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে।

এদিকে প্র’তারণার শি’কার হওয়ার চারদিন পর আজ বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভু’ক্তভোগী শিক্ষার্থী ইয়াসমিন জুঁই। সেখানে প্র’তারকদের প্র’তারণার জালে আ’টকা পড়ার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন তিনি।

শিক্ষার্থী জুঁই জানায়, গত ০৮ আগস্ট সকাল ১১টা ২৬মিনিটে ০১৮৫৮৮৯৬০১৫ নম্বর থেকে তাকে কল দিয়ে এক ব্যক্তি নিজেকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তুমি সম্বোধ’ন করে শিক্ষার্থী-কলেজের নাম,

বাবা-মায়ের নাম ও ভর্তি সেশন জানানো হয়। শিক্ষার্থী এসব ত’থ্য নিশ্চিত করলে বলা হয়, “উপবৃত্তির টাকা কয়বার পেয়েছ? তোমাদের নতুন করে উপবৃত্তি দেওয়া শুরু হয়েছে।

সবাই গত তিন বছরের ২০ হাজার টাকা করে পাবে। তবে এবার আর মোবাইল ব্যাংকিং রকে’টের মাধ্যমে নয়, স’রকার সি’দ্ধান্ত নিয়েছে বিকাশের মাধ্যমে এসব অর্থ দেওয়া হবে।”

একপর্যায়ে কলেজের প্রিন্সিপাল পরিচয় দিয়ে ‘বাবা অথবা মা’ সম্বোধ’ন করে কথা বলেন অন্য এক ব্যক্তি। এসময় তিনি কৌশলে নিশ্চিত হয়ে নেন ওই শিক্ষার্থীর বিকাশ একাউন্ট আছে কিনা, আর থাকলে সেটা কোন নাম্বারে।

পরবর্তীতে উপবৃত্তির টাকা তার বিকাশ একাউন্টে আসছে না জানিয়ে একটি কোড দিতে বলেন প্রিন্সিপাল পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি। পরে সরল মনে শিক্ষার্থী জুঁই বেশ কিছু কোড থেকে একটি কোড জানালে মুহূর্তেই তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে একাউন্টে থাকা ৮ হাজার ১৯৫ টাকা ০১৭৮৯৫৭২৪৯২ নম্বরে সেন্ট করে নিয়ে নেয় প্র’তারকরা। পরবর্তীতে প্র’তারকদের দুটি মোবাইল নাম্বারে কল দেওয়া হলে প্রথমে বাজলেও পরে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

শিক্ষার্থী ইয়াসমিন জুঁই সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ঈদের আগের একমাসের আর চলতি মাসের মেস ভাড়া বকেয়া ছিল। যা পরিশোধ করার জন্য নিরাপদ ভেবে বিকাশে টাকাগুলো রেখে দিয়েছিলাম, কিন্তু প্র’তারকরা কলেজের নাম ভাঙিয়ে আমার সব টাকা নিয়ে গেল। এখন আমাকে মেস ছাড়ার জন্য চা’প দিচ্ছে, কি করব ভেবে পাচ্ছি না।

জানতে চাইলে আজ বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁও কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মোঃ হারুন অর রশিদ বি’ষয়টিকে ‘ভ’য়াবহ প্র’তারণা’ আখ্যায়িত করে জানান, গতকাল রাতে বি’ষয়টি সম্প’র্কে প্রথম জানতে পারেন তিনি।

পরে আজ সকালে অধ্যক্ষ মহোদয়কে অবগত করার স’ঙ্গে স’ঙ্গে কলেজে জরুরি মিটিং কল করে তিন সদস্যের একটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অ’পরাধীদের ধরতে দ্রু’ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে।

এক ভু’ক্তভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বি’ষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, কলেজের নাম ভাঙিয়ে তার স’ঙ্গে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এটি নিশ্চিত এই ঘ’টনায় যারাই জ’ড়িত থাকুক তাদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়েছি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বি’ষয়ে তিনি বলেন, অতীতে কখনো এমন ঘ’টনার নজির নেই। তবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ত’থ্য শুধু কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেই নয়, বোর্ডসহ একাধিক জায়গায় থাকে। তারপরও এই প্র’তারণার স’ঙ্গে যদি কলেজের কেউ জ’ড়িত থাকে তার বি’রুদ্ধে ক’ঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এসময় দায়িত্বরত এক কর্মকর্তাকে অত্র কলেজের বৃত্তিপ্রা’প্ত সকল শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে কলেজের নিজস্ব মোবাইল নম্বর থেকে ‘সতর্ক বার্তা’ পাঠানো এবং জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন ভাইস প্রিন্সিপাল মোঃ হারুন অর রশিদ।

এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রা’ইম বিভাগের’ অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন,

বিকাশ অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্র’তারণার শেষ নেই। প্রতিনিয়ত মানুষ নানাভাবে প্র’তারিত হচ্ছে। ক’রোনাকালে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্র’তারকরা হয়তো এখন শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে।

তবে ভু’ক্তভোগী শিক্ষার্থী অথবা কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে এ বি’ষয়ে অভিযোগ করলে ‘অভিনব’ এই প্র’তারণার স’ঙ্গে যারা জ’ড়িত তাদের অবশ্যই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো, বলেন এডিসি নাজমুল ইসলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here