পুরো সপ্তাহ জুরে অত্যন্ত কর্মব্যস্ততার মধ্যে কা’টাতে হয় অনেকের। ফলে সপ্তাহ শেষে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়া ছাড়া অন্যকিছু করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু শুধু কাজেই ব্যস্ত থাকলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হয়।

তাই কাজকে আমাদের ব্যক্তিজীবনে প্রভাব ফেলতে দেয়া যাবে না। কাজের বাইরেও অন্যান্য জিনিস নিয়ে আমাদের ব্যস্ত হওয়া উচিত। প্রতি সপ্তাহে কাজের বাইরেও করা উচিত এমন ১০ টি জিনিস নিয়েই আজকের এই আলোচনা –

মোটিভেশনাল বই পড়ুন-

বিশ্রামের সময়টুকু অনেকে বিনোদনের জন্য সিনেমা বা খেলাধুলা করেই কাটিয়ে দেন, কিন্তু যারা প্রকৃত অর্থেই সফল তারা নি’য়মিত বই পড়েন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি বই পড়ার অভ্যাস আপনাকে আরো জ্ঞান সমৃদ্ধ করে তুলবে। বই পড়ার মাধ্যমে আপনি আরো ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ও আত্মনির্ভরশীল মানুষ হতে পারবেন এবং আপনার দৃষ্টিভ’ঙ্গিতে আমূ’ল পরিবর্তন আসবে।

পছন্দের গানগুলো শুনুন-

পুরোনো হলেও আপনার পছন্দের গানগুলো আপনাকে দিতে পারে অকৃত্রিম প্রশান্তি। ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে সোনালী অতীতে। হয়ত আপনি অতীতের স্মৃ’তি মনে করে নস্টালজিয়া হয়ে যেতে পারেন। তাই সপ্তাহ শেষে এই পছন্দের গানগুলো আপনাকে নতুন সপ্তাহের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করতে পারে।

জীবনের লক্ষ্যে মনোযোগী হন-

প্রতি সপ্তাহ শেষে আপনার লক্ষ্যগুলোর উপরে দৃষ্টিপাত করুন। আপনার স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য গুলোর দিকে প্রতি সপ্তাহে আপনি কতটুকু এগিয়ে যাচ্ছেন সে বি’ষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। লক্ষ্য থেকে যেনো ছিটকে না পড়েন সেজন্য লিখে রাখু’ন এবং প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার সেগুলোর ও’পর চোখ বুলিয়ে নিন।

দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান-

জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানো কাজ নয়। একদিনে কোন লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না। তাই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জন করতে প্রতিদিন অন্তত একটা কিছু করা উচিত যা আপনার লক্ষ্যের দিকে আপনাকে ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে যাবে।

কিছু কথা নিজের মাঝে রাখা ভালো-

আমরা বড় হওয়ার সাথে সাথে বুঝতে পারি যে সবসময় সততা সর্বোত্তম পন্থা নাও হতে পারে। আপনি কোন বি’ষয়ে সৎভাবে মত প্রকাশ করলে তা আপনার সাথীদের মনোক্ষুণ্ণ করতে পারে।

তাই পরিস্থিতি বুঝে মত প্রকাশ করা উচিত যাতে আপনার মন্তব্যে কেউ আ’ঘাত না পায়। তাবে সপ্তাহে অন্তত একবার সময় করে আপনার সেই সৎ মন্তব্যটি আপনার ব্যক্তিগত নথিতে তুলে রাখু’ন কেননা নিজের কাছে সৎ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

মানুষকে সহযোগিতা করুন-

কাউকে সাহায্য করার জন্য আপনাকে শুধু আর্থিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে এমনটা নয় মা’নসিকভাবেও আপনি অন্যকে সাহায্য করতে পারেন।

কোন বি’পদে মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং সৎ পরামর্শ দিন কারণ বি’পদে পড়লে মানুষ সঠিক সি’দ্ধান্ত নিতে পারে না তাই এসময়ে উপযুক্ত নির্দেশনা দিয়ে তাদের সাহায্য করা সামাজিকভাবে আপনার একান্ত দায়িত্ব। এ কাজটি অবশ্যই আপনাকে নিজের সম্প’র্কে আরো ভালো বোধ করতে সাহায্য করবে।

ঘরের আসবাবপত্র নতুন করে সাজান-

অবসর সময়ে আপনি নিজের আসবাবপত্রগুলো নতুন করে সাজাতে পারেন। এতে যেমন আপনার ঘরটি পরিষ্কার করা হবে তেমনি সামগ্রিক পরিবেশে এনে দেবে এক নতুনত্ব। এর ফলে একঘেয়েমি থেকেও আপনি মুক্তি পাবেন।

সাপ্তাহিক হিসাব নিকাশ চুকিয়ে নিন-

আপনার আয়- ব্যায়ের একটি সঠিক অনুপাত পেতে সপ্তাহ শেষে অন্তত একবার হিসাবের দিকে নজর দিন। পুরো সপ্তাহে যেসব ব্যায় হয়েছে তা সঠিকভাবে নথিভুক্ত করুন। এর ফলে আপনি অযাচিত ব্যায় থেকে বিরত থাকবেন এবং ভবি’ষ্যতের জন্য অর্থ সংরক্ষণ করতে পারবেন।

পুরোনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করুন-

দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততায় হয়তো পুরোনো বন্ধুদের খোঁজ-খবর নেয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই সপ্তাহ শেষে অন্তত একবার আপনার পুরোনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here