জাতীয়ঃ সে’নাবা’হিনীর সাবেক মে’জর সি’নহা মো. রাশেদ খান হ’ত্যা মা’মলার অন্যতম আ’সামি টে’কনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্র’দীপ কুমার দাশ ঘুষ ও দু’র্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সব সম্পদ রেখেছেন তার স্ত্রী চুমকী কারণের নামে। দু’র্নীতি দ’মন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে গৃ’হিণী চুম’কীর নামে প্রায় চার কোটি টাকার অ’বৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে।

অ’নুসন্ধানে প্র’দীপের নামে স্থা’বর-অস্থা’বর কোনো সম্পদ পাওয়া যায়নি। প্র’দীপ ও তার স্ত্রীর বি’রুদ্ধে অ’বৈধ স’ম্পদ অর্জনের অ’ভিযোগটি অ’নুসন্ধান করেছেন দুদকের চট্টগ্রাম-২ অফিসের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। অনুসন্ধান প্রতিবেদন এরই মধ্যে কমিশনের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শি’গগিরই কমিশনে পেশ করা হবে। কমিশনের অনুমোদনের পর প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বি’রুদ্ধে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অ’ভিযোগে মা’মলা করা হবে।

দুদ’কের অ’নুসন্ধান থেকে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে প্রদীপ এসআই পদে চাক’রিতে যোগদানের পর থেকেই তার জীবনধারা পাল্টে যেতে থাকে। পু’লিশের চাকরি পেয়েই তিনি হাতে পেয়েছিলেন আলাদিনের চে’রাগ। ২০০২ সাল থেকেই তার সম্পদ দৃশ্যমান হতে থাকে।

এটা তার জ্ঞাত আয়ের স’ঙ্গে অস’ঙ্গতিপূর্ণ। চুমকী একজন গৃহিণী হয়ে এত টাকার সম্পদের মালিক কীভাবে হলেন- এই প্রশ্ন সামনে এনেছে দুদক। প্রদীপ দাশ ঘুষ ও দু’র্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অ’পরাধলব্দ আয় স্ত্রীর নামে রেখেছেন বলে জানা গেছে দুদকের অনুসন্ধানে। এটাও শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ।

জানা গেছে, অনুসন্ধানকালে প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকী কারণ দুদকে তাদের সম্পদ বিবরণী পেশ করেছেন। তাদের সম্পদ বিবরণী যাচাই করে দেখা যায়, চুমকী একজন গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও কমিশন ব্যবসায়ী হিসেবে ২০১৩-১৪ করবর্ষে প্রথম আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। পরবর্তী সময় থেকে তিনি মাছের ব্যবসা ও বাড়িভাড়া থেকে আয় দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে আসছেন।

গত ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ করবর্ষে তিনি কমিশন ব্যবসার মূ’লধ’ন হিসেবে ১১ লাখ ২২ হাজার টাকা ও আয় হিসেবে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে তার কমিশন ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানকালে চুমকী কমিশন ব্যবসার লাইসেন্স, একজন স’রকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ব্যবসা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন ও ব্যবসা-সংক্রান্ত অন্য কোনো রেকর্ডপত্র সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

গত ২০০২-০৩ থেকে ২০১৪-১৫ করবর্ষ পর্যন্ত চুমকী মৎস্য ব্যবসা থেকে দেড় কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করার ত’থ্য আয়কর নথিতে উল্লেখ করেছেন। এই আয়ের স্বপক্ষে তিনি ২০০২ সালে বোয়ালখালী উপজে’লার পাঁচ’টি পুকুর নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় দশ বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন মর্মে চুক্তিপত্র দাখিল করেছেন।

তবে চুমকী ওই মৎস্য ব্যবসার সম্পদের উৎস্য দেখাতে ব্যর্থ হন। এ ছাড়া তার স্বা’মী ১৯৯৫ সালে এসআই পদে পু’লিশে চাকরিতে যোগ দেন। ২০০২ সালেই এত টাকার বিনিময়ে পুকুর লিজ নেওয়ার সামর্থ্য তার থাকার কথা ছিল না বলে জানিয়েছে দুদক। মৎস্য ব্যবসায় তার দেড় কোটি টাকার বিনিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছে দুদক।

দুদকের অনুসন্ধানে চুমকীর নামে চট্টগ্রামের কোতোয়ালিতে জমিসহ ছয়তলা বাড়ি পাওয়া যায়। চুমকী দুদককে বলেছেন, বাড়িটি তার বাবার কাছ থেকে দানসূত্রে পাওয়া।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রদীপ দাশ ঘুষ ও দু’র্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে স্ত্রীর নামে বাড়িটি তৈরি করেছেন। এ ক্ষেত্রে চুমকী দুদকে মি’থ্যা ত’থ্য প্রদান করে আইন অনুযায়ী অ’পরাধ করেছেন। এ ছাড়া চুমকীর নামে আরও প্লট, ফ্ল্যাট, একাধিক গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here