ক’রোনাভা’ইরাসে প্রাদুর্ভাবে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) এবং জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার বি’ষয়ে স’রকার এখনো কোনো সি’দ্ধান্ত নেয়নি। পরীক্ষা নিয়ে যখনই ঘোষণা আসবে, পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় পাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের স’চিব মো. মাহবুব হোসেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) স’চিবালয়ে শিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স’চিব।

তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা যখনই অনুষ্ঠিত হোক, পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় পাবেন। আর আগামী ৩১ আগস্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে কিনা, তা ২৫ আগস্টের বৈঠকে সি’দ্ধান্ত হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের বি’ষয়ে শিক্ষা স’চিব বলেন, বৈশ্বিক ম’হামা’রি ক’রোনা পরিস্থিতির অ’বনতির কারণে এ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। এ বি’ষয়ে শিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়ের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

এর আগে জানা গেছে, কো’ভিড-পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রমের নীতি-কৌশল চূড়ান্ত করার কাজে ব্যস্ত শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়। গত বুধবার (১২ আগস্ট) জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যসূচি পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করেছে।

গত বুধবার পিইসিসহ প্রাথমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে খুলতে পারলে সংক্ষি’প্ত সিলেবাসে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তাভাবনা আছে।

আমরা সেপ্টেম্বরের দিকে যদি স্কুল খুলে দিতে পারতাম, তাহলেও এটা সম্ভব হবে। আবার যদি তা না হয় (সেপ্টেম্বরে না খোলে), অক্টোবরের দিকে খোলে, তাহলে ৫০ নম্বরের পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারি। এগুলো আমাদের চিন্তাভাবনা। কিন্তু যদি আরও পরে খোলা হয় তাহলেও বিকল্প ভাবতে হবে।

অন্যদিকে ম’হামা’রীর কারণে এ বছর পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী বা পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে বলে গত সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়ের সিনিয়র স’চিব আকরাম-আল-হোসেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আমরা ন্যূনতম ঝুঁ’কির মধ্যে ফেলতে চাই না। পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হবে তখনই তারা স্কুলে যাবে। যেহেতু কবে প্রতিষ্ঠান খোলা যাবে তা আমরা জানি না। তাই একাধিক বিকল্প হাতে রেখে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।

এদিকে গত এপ্রিল থেকে স্থগিত থাকা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়েও চূড়ান্ত সি’দ্ধান্তে আসতে পারছে না ম’ন্ত্রণালয়। তবে স্বা’স্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ক’রোনাভা’ইরাসে পরিস্থিতির আর অ’বনতি না ঘটলে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বা অক্টোবরের শুরুতে এই পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে নাগাদ খোলা যেতে পারে এ নিয়েও বিশিষ্টজনদের স’ঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছে শিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়। শিক্ষা ম’ন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের স’চিব মাহবুব হোসেন বলেন,

ক’রোনায় শিক্ষায় ক্ষ’তি পূরণে বিশেষ করে সামনে কোন মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে সে সংক্রান্ত একটা খসড়া প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। মতামতকে আমরা গুরুত্বের স’ঙ্গে দেখছি। এ নিয়ে এনসিটিবি কাজ করবে।

প্রস’ঙ্গত, ক’রোনাভা’ইরাসেের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ম’ন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here