সারাদেশঃ টেকনাফ থানার ভারপ্রা’প্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ঘুষ ও দু’র্নীতির মাধ্যমে যে অ’বৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন প্রদীপ কুমার দাশ, তা স’রকারের চোখে বৈধ করার দায়িত্ব ছিল তার স্ত্রী চুমকি করনের ও’পর। দু’র্নীতি দ’মন কমিশনের (দুদক) কমিটির করা ত’দন্তে এ ত’থ্য উঠে এসেছে।

দুদকের ত’দন্ত কমিটি প্রদীপ ও চুমকির কাছে তিন কোটি ৯৫ লাখ টাকার অ’বৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন এ ঘ’টনায় গতকাল রোববার সংস্থার চট্টগ্রাম কার্যালয়ে ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বি’রুদ্ধে মা’মলা দা’য়ের করেছেন।

প্রদীপের স্ত্রী চুমকির বি’রুদ্ধে দায়ের করা মা’মলার বিবৃতি অনুসারে, চুমকি তাদের সম্পদের বিবরণে দেখিয়েছেন যে তার বাবা তাকে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকায় একটি ছয়তলা বাড়ি দিয়েছেন। চুমকির দুই ভাই থাকলেও তারা বাবার কাছ থেকে তেমন সম্পদ পাননি-এমন ত’থ্য দুদকের ত’দন্তে উঠে এসেছে।

মা’মলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ওই ভবন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ঘুষ ও দু’র্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তৈরি করেছেন। এবং তা গো’পন করার জন্য তিনি এটি তার শ্বশুরের নামে করেছিলেন। তার শ্বশুর সেটি তার স্ত্রীর নামে লিখে দেন।

চুমকির দাবিকৃত মাছের ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি ত’দন্তকারী দল। তিনি তার ব্যবসার কোনো লাইসেন্স বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে পারেননি।

একজন স’রকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ব্যবসা করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা নেননি। ২০০২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মাছের ব্যবসায় থেকে দেড় কোটি টাকা উপার্জনের কথা উল্লেখ করেছেন চুমকি।

২০০২ সালে বোয়ালখালীতে পাঁচ’টি পুকুর ১০ বছরের জন্য ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় লিজ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। ২০০২ সালে মাছ ব্যবসা শুরু করার জন্য বিনিয়োগের ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা কোথায় পেয়েছিলেন সে সম্প’র্কে কোনো দলিল দেখাতে পারেননি তিনি।

অ’ভিযোগে লেখা হয়েছে, এতে প্রমাণিত হয় যে প্রদীপের অজস্র অ’বৈধ অর্থ গো’পন করার জন্যই চুমকি ভুয়া মাছের ব্যবসা দেখিয়েছিলেন।

মাছের ব্যবসা থেকে তিনি দেড় কোটি টাকা আয় করেছেন, এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে কমিশন আরও জানতে পারে, চুমকির স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে চার কোটি ২২ লাখ টাকার এবং পারিবারিক ব্যয় হয়েছে ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকার। সেখানে তার বৈধ আয় মাত্র ৪৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে তিনি জ্ঞাত বহির্ভূত আয় করেছেন তিন কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

প্রস’ঙ্গত, সে’নাবা’হিনীর সাবেক মেজর সিনহাকে হ’ত্যার অ’ভিযোগে মা’মলা দা’য়ের হওয়ার পর প্রদীপকে টেকনাফ থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয় গত ৫ আগস্ট। গত ৬ আগস্ট তিনি কক্সবাজার আ’দালতে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে উপপরিদর্শক হিসেবে পু’লিশে যোগ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here