বাংলাদেশে আশাবা’দী মানুষের সংখ্যা কম নয় এবং সংশয়বা’দীদের বি’রুদ্ধে আশাবা’দীরা সবসময় আশার আলো ছড়িয়ে থাকেন। আশাবাদ নিয়েই বাংলাদেশ বেঁচে থাকে। বাংলাদেশের ক’রোনা পরিণতি কি হবে এই নিয়ে গবেষকদের মাঝে বিতর্ক আছে।

কোন কোন গবেষক বলছেন বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভ’য়াবহ হবে, তেমনি অনেক গবেষকরা আশাবাদ ছড়াচ্ছেন, তারা বলছেন যে নানা কারণে বাংলাদেশে ক’রোনা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি ঘটবে। মা’র্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেনের মতো পরিস্থিতি বাংলাদেশে হবেনা।

হবে, পরিস্থিতি কতদিন এমন থাকবে তা বোঝার জন্য যেরকম তথ্য-উপাত্ত দরকার তা মোটেই নেই। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যে পরীক্ষা হয়েছে, সেই পরীক্ষা দিয়ে পুরো দেশের পরিস্থিতি অনুমান করা সম্ভব নয়।

কারণ বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রতি ১০ লাখে মাত্র ৫৩২ জনের ক’রোনা পরীক্ষা হয়েছে।এটা এতই অপ্রতুল যে, একটি সঠিক প্রক্ষেপণ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়।

তখন আমাদের সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবে ক’রোনার ভ’য়াবহতা অনুভব করতে পারবো না। প্রায় ৯০ ভাগ আ’ক্রান্ত রো’গীই মৃদু উপসর্গ নিয়ে থাকে এবং এটা সমাজ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য কোন আ’তঙ্ক তৈরি করেনা।

ক’রোনা সং’ক্র’মণ ঠে’কাতে একটি ভূমিকা রাখবে। এই আশাবাদের উপর ভিত্তি করে তাঁরা মনে করছেন যে, যেহেতু বাংলাদেশে এখন বৃষ্টি হচ্ছে এবং গরম আবহাওয়া তৈরি হয়েছে- কাজেই ক’রোনা খুব দ্রুত বিস্তৃত হতে পারবে না।

৩. পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস
আমরা ক’রোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে সামাজিক দুরত্ব তৈরি করতে পারিনি, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আমাদের তেমন সফল হয়নি। কিন্তু আমরা একটি বি’ষয়ে অনেক সচেতন হয়েছি। তা হলো পরিচ্ছন্নতা এবং মাস্ক পরা। বাংলাদেশের প্রায় সব মানুষই এখন সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া বা মাস্ক পরে বাইরে যাওয়ার বি’ষয়টি রপ্ত করে ফে’লেছে এবং এটা ক’রোনা

মোকাবেলার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বাংলাদেশে যে একটি বড় সংখ্যক মানুষ ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হবে বা সামাজিক সং’ক্র’মণ বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে সেটা হবেনা এই পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাসের কারণে।

৪. নিজে থেকেই সুস্থ হবেন অনেক মানুষ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেহেতু বাংলাদেশের একটি বিরাট অংশ মানুষের পরীক্ষা হচ্ছে না এবং হাসপাতাল ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মাঝে আ’তঙ্ক আছে- সেজন্য কিছু কিছু মানুষ ক’রোনা আ’ক্রান্ত হলেও মৃদু উপসর্গ নিয়ে বাসায় থাকবে এবং ১৪ থেকে ২১ দিনের মাথায় সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। এটা সাধারণ তথ্য, পরিসংখ্যানের ভেতর

আসবে না, রো’গী নিজেও তথ্যটি গো’পন করবেন। তথ্য গো’পনের একটি বড় কারণ হলো, বাংলাদেশে ক’রোনা নিয়ে একটি সামাজিক ঘৃণাবোধ তৈরি হয়েছে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই অনেক মানুষই ক’রোনা উপসর্গ থাকলেও প্রকাশ করছেন না। কাজেই বাংলাদেশে যারা ক’রোনা আ’ক্রান্ত হচ্ছেন তাঁদের একটি বড় অংশই হিসেবের বাইরে থেকে যাবে।

৫. মানুষের অদম্য প্রা’ণশক্তি
ক’রোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে মানুষের প্রা’ণশক্তিকে একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে মনে করছেন মা’র্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন যে, আ’ক্রান্ত ব্যক্তির প্রচণ্ড প্রা’ণশক্তি তাঁকে বাঁচিয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের অদম্য প্রা’ণশক্তি রয়েছে এবং যার কারণে মৃদু সং’ক্র’মণ থেকে জটিল সং’ক্র’মণেও মানুষ তাঁর প্রা’ণশক্তি দিয়ে তথ্য গো’পন করেও সুস্থ হয়ে উঠবে।

এর ফলে বাস্তবে বাংলাদেশে ক’রোনার কত সং’ক্র’মণ হয়েছে, কত মানুষ আ’ক্রান্ত হয়েছে সেই তথ্য আমরা পাবো না এবং একটি পরিস্থিতিতে এটাই আমাদের সহনীয় হয়ে উঠবে। যেমন বাংলাদেশে ডায়রিয়া সহনীয় হয়ে গেছে, ডেঙ্গু সহনীয় হয়ে গেছে, সড়ক দূর্ঘটনা সহনীয় হয়ে গেছে, তেমনি ক’রোনাও হয়তো এক সময় আমাদের সহ্যের আওতায় চলে আসবে। এটা নিয়ে আমরা উ’দ্বি’গ্ন বা আ’তঙ্ক হবোনা এবং দ্রুতই আমরা স্বভাবিক জীবনে ফিরে আসবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here