সারাদেশঃ এতিমদের ভুয়া তালিকা তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আ’ত্মসাতের অ’ভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজে’লার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের শহীদ ইয়ার উদ্দিন বয়াতী

এতিমখানার প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মোক্তার হোসেনের বি’রুদ্ধে। এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে

এ পর্যন্ত এতিমদের খাবার এবং পোশাক বাবদ আসা লাখ লাখ টাকা আ’ত্মসাৎ করে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় গত ১ অক্টোবর দান ও স’রকারি অনুদানের টাকা আ’ত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়মের বি’ষয়ে ত’দন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান শিক্ষকের বি’রুদ্ধে জে’লা প্রশাসক বরাবর লিখিত অ’ভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

অনুদানের টাকার কোনো হিসাব দিতে পারেনি সমাজসেবা অফিস ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।

তবে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৬৪ জন এতিম দেখিয়ে সাত লাখ ৬৮ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৬৪ জন এতিম দেখিয়ে সাত লাখ ৬৮ হাজার টকা,

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৬৪ জন এতিম দেখিয়ে সাত লাখ ৬৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৬৭ জন এতিম দেখিয়ে ফের ১৬ লাখ ৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেন প্রধান শিক্ষক হাফেজ মোক্তার হোসেন।

স্থানীয়রা অ’ভিযোগ করেন, এতিমখানায় একটি সাইনবোর্ড ছাড়া এখন আর কোনো কার্যক্রম নেই। ৩-৪ জন ছাড়া কোনো সময় এতিমদের থাকতে দেখেননি তারা।

বর্তমানে এতিমখানাটির প্রধান গেট তালাবদ্ধ। এতিমখানার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সাধারণ মানুষের দান ও স’রকারি অনুদানের দেয়া এতিমদের লাখ লাখ টাকা আ’ত্মসাৎ করে কোটি টাকা ব্যয় করে নড়িয়া চান্দনি এলাকায় আলিশান বাড়ি তৈরি করেছেন প্রধান শিক্ষক।

অ’ভিযোগ প্রসঙ্গে এতিমখানার প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মোক্তার হোসেন বলেন, স’রকারি অনুদানের যত টাকা পাই তার অর্ধেক সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় দিতে হয়।

বিএনপি আমলে চেকের মাধ্যমে দিতাম। আর এখন নগদ টাকা দিতে হয়। তিনি বলেন, সমাজসেবা অফিস থেকে পাওয়া টাকা এনে ছাত্রদের খাবার এবং পোশাক বাবদ খরচ করেছি।

বাড়ি নির্মাণ প্রসঙ্গে হাফেজ মোক্তার হোসেন বলেন, ইসলামী ব্যাংক ও সমাজসেবা অফিসসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন উত্তোলন করে বাড়ি করেছি।

ভোজেশ্বর-জপসা চাহেদআলী হাফেজিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার সভাপতি শাহজাহান হাওলাদার বলেন, এতিমখানা ও মাদরাসা পরিচালনা করতেন হাফেজ মোক্তার।

২০২০ সালে আমি মাদরাসার সভাপতি হওয়ার পর হাফেজ মোক্তারের কাছে এতিমখানা ও মাদরাসার হিসাব চাইলে হাফেজ মোক্তার হিসাব দিতে রাজি হননি।

দান ও স’রকারি অনুদানের দেয়া এতিমদের লাখ লাখ টাকা আ’ত্মসাৎ করে কোটি টাকা ব্যয় করে আলিশান বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি।

নড়িয়া উপজে’লা সমাজসেবা কর্মকর্তা মমিনুর রহমান বলেন, আমরা এতিমখানার সমস্ত কাগজপত্র ও রেজুলেশন হালনাগাদ পেলেই শুধুমাত্র টাকার চেক দিয়ে থাকি।

জে’লা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. কামাল হোসেন জানান, বি’ষয়টি যেনে ওই এতিমখানায় নড়িয়া উপজে’লা সমাজসেবা কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছিলাম।

তারা এতিমখানাটি বন্ধ পেয়েছে। যদি টাকা আ’ত্মসাতের ঘটনা প্রমাণিত হয়, তাহলে অনুদান বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে

এবং টাকা স’রকারি কোষাগারে জমা হবে। সংশ্লিষ্ট উপজে’লা সমাজসেবার কেউ এতে জ’ড়িত থাকলে ত’দন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here