সারাদেশঃ মা’রপিটকে খুব ভ’য় পেতেন রায়হান। এ কারণে বন্ধুরাও তাকে লেডিস বলে ঠাট্টা করতেন। সেই ভ’য় জীবনে কাল হয়েই দাঁড়ালো রায়হানের।

প্রায় এক ঘণ্টার পুলিশি নি’র্যাতনে প্রা’ণ হা’রান তিনি। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর রাতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে আনার পর তাকে নেওয়া হয় ফাঁড়ির ই’নচার্জ আকবর হোসেন ভুঁইয়ার কক্ষে।

সেখানে লা’ঠি দিয়ে তাকে উপর্যুপরি আ’ঘাত করা হয়। আকবরের সঙ্গে অতিউৎসাহী হয়ে রায়হান উদ্দিনকে (৩০)

মা’রধর করেন কনস্টেবল হারুন ও টিটু। ফাঁড়ির প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ সদস্য এমন লোমহর্ষক তথ্য নিশ্চিত করেন।

তার দেখানো মতে কাষ্টঘরের সুলাই লালের ঘর থেকে নাকি রায়হানকে ধরে পুলিশ ফাঁড়িতে আনেন তিনি। রায়হানকে ধরার বি’ষয়টি ওয়ারলেস সেটের মাধ্যমেও অবগত করেছিলেন তিনি।

রায়হানকে ফাঁড়ির অভ্যন্তরে শেষ মাথায় এসআই আকবরের কক্ষে নিয়ে গেলে মা’রধর শুরু করা হয়।

তথ্য প্রদানকারী পুলিশ সদস্য রায়হানকে মা’রতে বারণ করে এসআই আকবরকে বলেন, স্যার ম’রে যাবে তো।

কিন্তু তার কথা না শুনে পে’টাতে থাকলে তিনি ফাঁড়ি থেকে বেরিয়ে সিগারেট আনতে জিন্দাবাজার পয়েন্টে চলে যান।

রাতের ডিউটিতে থাকা সিয়েরা-চার পার্টির পুলিশ কনস্টেবল হারুন ও টিটু মিলে মা’রধর করলেও তৌহিদ ফেঁসে যান মোবাইল ব্যবহার করতে দিয়ে।

তার মোবাইল দিয়েই ভোর রাত ৪টা ৩৭ মিনিটের দিকে রায়হানের বাসায় ফোন করা হয়। এরপর কোতোয়ালি থানার ওসি (ত’দন্ত)

সৌমেন মিত্র তাকে ফোন করে ফাঁড়িতে আসতে বলেন এবং মৃ’ত্যু পথযাত্রী রায়হানকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন।

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় রায়হানকে নিয়ে আসা ও নি’র্যাতনের পর হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্যটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সিসি ফুটেজে ধরা পড়ে।

সেখানে হাসপাতালের দুই তলায় নিয়ে এক্স-রে করার পর ক্যাজু’য়ালিটি বিভাগে ভর্তি করেন। এরপর রায়হানের অবস্থা গু’রুতর হলে

আইসিইউতে নেওয়ার ২০ মিনিট পর ভোর ৬টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক রায়হানকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। বি’ষয়টি ফোনে এসআই আকবরকে জানান রায়হানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্য।

পরে এসআই আকবর সঙ্গে কনস্টেবল হারুনকে নিয়ে হাসপাতালে যান। হাসপাতাল থেকে ফাঁড়িতে ফিরে আসার পর সকাল

৮টার দিকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে দিয়ে (ডিলিট) বেরিয়ে পড়েন। আর ফাঁড়ি থেকে বেরিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান আকবর। এর পর থেকেই তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ওই পুলিশ সদস্য বলেন, এসআই আকবর বাঁশের লা’ঠি দিয়ে অ’মানবিক নি’র্যাতন করেছেন। তাদের বেপোরোয়া নি’র্যাতনের কারণে জলজ্যান্ত মানুষটির আঙুলের নখ উপড়ে যায়,

হাত ও পায়ের হাঁড় ভে’ঙে যায়। রায়হানকে অ’মানবিক নি’র্যাতনের বি’ষয়টি ওসি সৌমেনকে জানান তিনি। একই বক্তব্য তিনি পুলিশ কমিশনারের সামনেও দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিন জনকে প্রত্যাহার করা হলেও আমরা ছয় জনই পুলিশ লাইনে আছি।

কিন্তু এসআই আকবর নেই, তিনি রোববার সকাল থেকেই লাপাত্তা হয়ে যান। পুলিশ লাইনে কড়া প্রহরায় রাখা হয়েছে আমাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here