সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ফুটফুটে এক নবজাতক মেয়ে জন্ম দিয়ে সাঈদা বেগম নামে এক মা পালিয়েছেন। নবজাতক শিশুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে এবং সে সুস্থ আছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় ওই নবজাতকের জন্ম হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মধুসূধন ধর।

রোববার (০৮ নভেম্বর) স্বাস্থ্য দুপুর ১টায় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাইদা বেগমকে নিয়ে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামের ফারুক মিয়া পরিচয়ে একজন হাসপাতালে ভর্তি হন।

বিকেলে ফুটফুটে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। নবজাতককে হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে শিশুটির মা–বাবা তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান।

কোনো এক সুযোগে শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান শিশুটির মা–বাবা। বিষয়টি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের নজরে এলে তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।

অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বিষয়টি জগন্নাথপুর থানা-পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশও এখন পর্যন্ত ওই দম্পতির কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবজাতককে লালন-পালন করা হচ্ছে। নবজাতক সুস্থ আছে।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নবজাতকের মা–বাবার পরিচয় শনাক্তে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হাশিম বলেন, বালিকান্দি গ্রামে খোঁজ করে তাদের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

মনে হচ্ছে, হাসপাতালে ভুল তথ্য দিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ভর্তি করিয়েছিলেন তার স্বামী ফারুক।

মহানবী (সা.) কে ব্যঙ্গ করায় সংসদে নিন্দা প্রস্তাবের দাবি</strong

সম্প্রতি ফ্রান্সের সাপ্তাহিক শার্লে এবদো পত্রিকায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে ব্যঙ্গ করার প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের দাবি করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

রোববার (৮ নভেম্বর) মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সংসদের বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনে তিনি এ দাবি তোলেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ফ্রান্সের একটি সাপ্তাহিক মহানবীকে (স.) নিয়ে ব্যঙ্গ চিত্র প্রকাশ করেছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো উল্টো আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।

মহানবীর তাৎপর্যময় জীবন ও বিদায় হজের ভাষণ উল্লেখ করে হারুনুর রশীদ বলেন, মহানবী (সা.) বলে গেছেন, মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ নেই। আরবের ওপর অনারবে কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

সাদার ওপর কালো কিংবা কালোর ওপর সাদার কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তিনি ঈর্ষা হিংসা থেকে দূরে থাকতে বলেছেন কারণ, ঈর্ষা ও হিংসা মানুষের সব ভালো গুণ নষ্ট করে দেয়।

মহানবী বিদায় হজের ভাষণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) শিশু নারীদের ওপর অত্যাচার না করতে বলেছেন। কাজের লোকদের ব্যাপারে বলেছেন, তোমরা যা খাবে, তাদেরকে তাই খাওয়াবে। তোমরা যা পরবে, তাদেরকে তা পরাবে। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে পাওনা পরিশোধের কথা বলেছেন।

মহানবী (সা.) বংশগত শ্রেষ্ঠত্ব ও কৌলিন্য প্রথা বিলুপ্ত করে বলেছেন, কৌলিন বা শ্রেষ্ঠ সেই যিনি বিশ্বাসী ও মানুষের উপকার করে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন, উল্লেখ করেন বিএনপির এ সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, যেহেতু তিনি শুধুমাত্র মানুষদের মধ্যেই শ্রেষ্ঠ না, যত নবী এসেছেন তাদের মধ্যেই শ্রেষ্ঠ। তাই বাংলাদেশের মত ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের দেশ হিসেবে মহানবী (সা.) কে ব্যঙ্গ করার সরকারিভাবে নিন্দা করা উচিত।

সংসদে এর নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য সংসদ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এ সংসদ সদস্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here