হ্যাঁ, ঠিক এই প্রশ্নটিই আমি করেছিলাম আমার পরিচিত-অপরিচিত অসংখ্য মানুষকে। আমাদের সমাজের অত্যন্ত প্রচলিত একটি ধারণা হচ্ছে- “ডিভোর্সের পর মেয়েরা একা

থাকতে পারে না!” শুধু ধারণা হয়, বলা যায় বদ্ধমুল ধারণা।এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও অসংখ্য মেয়ে এই ধারণাটির কারণে সম্পূর্ণ

জীবনটি কাটিয়ে দেন কষ্ট আর হতাশায়।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ধারণাটি কতটুকু সত্যি? বা এই ধারণাটা নিয়ে কী ভাবেন বর্তমানের নারী-পুরুষ?

যাদের কখনো ডিভোর্স হয়নি বা খুব কাছের কারো ডিভোর্স দেখা হয়নি… তাঁরা হয়তো কখনোই বুঝতে পারবেন না মূল অবস্থাটি। কিন্তু যারা গিয়েছেন বা

তাঁদের জীবনের ঝড়ঝাপটা গুলোর কথা। কী জবাব মিল? তাঁদের মন্তব্যগুলো নাহয় হুবহু-ই তুলে দিচ্ছি পাঠকের জন্য। বাকিটা পাঠক নিজ বিবেক দিয়ে বিবেচনা করবেন।

আমি থাকি আম্মুর সাথে.. সেরকমভাবে কোন সমস্যায় পড়িনি, বিকজ অফ আমার ভয়াবহ অ্যারোগেন্ট ইমেজের জন্য। এবং এটা আমি নিজেই বানিয়েছি। আমার ডিভোর্স হয়ে

গেছে আমি অচ্ছুত হয়ে গেছি, আমার কেউ নাই- এরকম লুতুপুতু ইমেজ বানালে যে কেউ বিরক্ত করতে আসবে।আর সবচে মজার বিষয় হচ্ছে আমার ব্যাপারটা থানা

পুলিশ জেল অব্দি গড়িয়েছিল, কিছুটা হলেও শাস্তি দিতে পেরেছিলাম, তাই সবাই এই ভয়টাও পায় কীভাবে লাল দালানে চালান দিতে হয় সেটা আমি জানি, তাই আমাকে না

ঘাটানোই ভাল।আর একা থাকার আরেকটা বিষয় নিয়ে সমস্যা হয় সেটা হলো বাসাভাড়া কেউ দিতে চায়না, আবার বাচ্চার স্কুলে অন্য মহিলাদের অযথা কৌতুহল এবং

সব সময় নিজেকে একটু সাবধানে রাখতে হয় যাতে কেউ গুজব রটাতে না পারে। তবে এগুলাও মেন্টেন করা যায়। আমরা কেউ ছোট বাচ্চা তো না যে নিজের অসুবিধা বুঝবোনা।

একা থাকার সবচে বড় শর্ত হচ্ছে স্বাবলম্বী হওয়া, স্বাবলম্বী যে কেউ একা থাকতে পারে। কারো অনুগ্রহে বা অধীনে বাঁচতে গেলেই একা থাকাটা আর হয়ে ওঠেনা।

আমি ঠিক একা না। মা সাথে থাকে। দোকা থাকা অবস্থাই মা আমার সাথে থাকতো। তবে মা আমাকে আবার বিয়ে করতে আগ্রহী নই বলে ফ্ল্যাট কিনতে বলে।

সে সহ সবাই ভয় দেখায় মা চিরজীবন থাকবে না, তখন আমার থাকার জায়গা থাকবেনা। আমি ভাবছি শুধু থাকার জায়গার জন্য কি বিয়ে করা লাগবে!

শাফিয়া (২৮), গৃহিণীসমাজের মানুষ তো একা থাকলেও বলবে, দোকা থাকলেও বলবে। একা বা দোকা থাকা সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার হওয়া উচিৎ।

তবে সমাজের কথাটা একেবারেই ফেলে দেওয়ার মতো ও নয়। কারণ-১. প্রতিটা মানুষেরই একজন সংগী লাগে। যে সুখে দু:খে পাশে থাকবে।

মানছি মেয়েরা অনেক স্ট্রং, তারপরও, লাগে কিন্তু একজনকে। শারীরিক মানসিক চাহিদা পূরণের জন্য। অনেকেই হয়তো শারীরিক চাহিদা উপেক্ষা করে থাকতে পারে

(রেশিওটা অনেক কম কারণ শারীরিক সম্পর্ক একবার হলে সেটাকে অগ্রাহ্য করাটা টাফ), অনেকে না পারায় অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়।আবার কেউ

হয়তো মানসিক সাপোর্ট এর জন্যও একা থাকতে চায় না।২. এই সমাজের মানুষই একা থাকতে দিবে না। একা মেয়ে সাবলেটে থাকলেও খারাপ, একা থাকে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here