চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতাল কর্মীদের মারধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুল করিমের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপকমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

তেজগাঁও জোনের ডিসি হারুন অর রশীদ বলেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় স্পষ্ট মনে হয়েছে- এএসপি আনিসুলের মৃত্যু অনাকাঙ্ক্ষিত নয়,

এটি হত্যাকাণ্ড। কারণ যে ১০-১২ জন লোক তাকে পিঠ বেঁধে, মুড়ে, আছড়ে নিয়ে গেছে, তারা কেউ ডাক্তার না।

সেখানে দেখলাম… আট থেকে ৯ জন লোক তাকে পিঠ মোড়াচ্ছে, তাকে মাথায় আঘাত করছে; তাকে বেঁধে ফেলছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে জোর করে নিয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে এএসপির মৃত্যুর ঘটনায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজারসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ৯ নভেম্বর রাজধানীর আদাবরের মাইন্ড এইড নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতাল কর্মীদের

মারধরে মৃত্যু হয় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুল করিমের।

হাসপাতালের অ্যাগ্রেসিভ ম্যানেজমেন্ট কক্ষের ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দেখা যায়, হাসপাতালে ৬-৭ কর্মী টেনেহিঁচড়ে ওই কক্ষের মধ্যে নিয়ে আসে আনিসুলকে।

সেখানে তাকে কয়েকজন চেপে ধরে রাখতে দেখা যায়। একই সঙ্গে কয়েকজনকে তাকে কনুই দিয়ে আঘাত করতে থাকেন।

দীর্ঘক্ষণ নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকলেও আনিসুলের চিকিৎসার ব্যাপারে কেউ কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরে তাকে শ্যামলী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

এএসপি আনিস হত্যা মামলায় ১০ জন রিমান্ডে

আনিসুলের পরিবারও একই অ’ভিযোগ করেছে। তারা জানিয়েছেন, ভর্তির পর পর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পি’টিয়ে হ’ত্যা করেছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় তারা পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন মাত্র। পরে তার মৃ’ত্যু হয়।

এদিকে হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুলকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে ঢোকানো হয়।

তাকে হাসপাতালের ছয়জন কর্মচারী মিলে মাটিতে ফে’লে চে’পে ধরেন। এর পর আরও দুজন কর্মচারী তার পা চে’পে ধরেন।

এ সময় মাথার দিকে থাকা দুজন কর্মচারীকে হাতের কনুই দিয়ে তাকে আ’ঘাত করতে দেখা যায়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

একটি নীল কাপড়ের টুকরা দিয়ে আনিসুলের হাত পেছনে বাঁ’ধা হয়।কিছুক্ষণ পর আনিসুলকে উপুড় করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here