সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’ রায়হান আহমদ নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের বহিস্কৃত উপ পরিদর্শক আকবর হোসেন

ভূইয়াকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হয়বলে জানিয়েছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। সোমবার (৯ নভেম্বর)

সকালে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোনা সীমান্ত থেকে আকবরকে গ্রেফতারের কথা জানায় পুলিশ।

আকবর গ্রেফতার হওয়ার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। এস আই আকবরকে গ্রেফতার করার পর আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

কিন্তু তার বিচার প্রকাশ্য জনগণের সামনে সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে করতে হবে। তাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে। তবেই রায়হানের আত্মা শান্তি পাবে।

তিনি বলেন, আকবরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সেটি আকবর বলেছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তাসহ আকবরকে

সহায়তাকারী সাংবাদিক নোমানের শাস্তি দাবি করেন তিনি। বলেন, যারা অপরাধীকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে তারাও সমান অপরাধী।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার

পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়।রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের

হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর,

নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন

উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে।

অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর দুপুরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় ওই ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ও ২৩ অক্টোবর

কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) কনস্টেবল টিটুকে ফের তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here