জ্যেষ্ঠ এএসপি আনিসুল করিমের ম’র্মান্তিক মৃ’ত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার। তার এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও সহকর্মীরা।

এরই মধ্যে গাজীপুরে নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে আনিসুলের। তিন বছরের সাফরানকে নিয়ে শো’কে স্তব্ধ এএসপি আনিসুল করিম শিপনের স্ত্রী শারমীন।

মা’নসিকভাবে অ’সুস্থ এএসপি আনিসুল করিমকে সুস্থ করে তুলতে কর্মস্থল বরিশাল থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন স্বজনরা। ভর্তি করা হয় আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে।

কিন্তু মুহূর্তেই সব এলোমেলো হয়ে যায়। সুস্থতার পরিবর্তে গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে ফেরে আনিসুল করিমের নিথর দেহ।

তার দীর্ঘদিনে বন্ধুরা জানান, এই মৃ’ত্যু কোনোভাবে মেনে নিতে পারছি না। একজন মানুষকে কীভাবে পি’টিয়ে হ’ত্যা করা হয়। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রা’ণরসায়ন ও অনুপ্রা’ণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন আনিসুল করিম। ৩১তম বিসিএস ক্যাডারে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।

সবশেষ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। রেখে গেছেন স্ত্রীসহ তিন বছরের ছেলে সাফরানকে।

এএসপি আনিস হত্যা মামলায় ১০ জন রিমান্ডে

আনিসুলের পরিবারও একই অ’ভিযোগ করেছে। তারা জানিয়েছেন, ভর্তির পর পর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পি’টিয়ে হ’ত্যা করেছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় তারা পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন মাত্র। পরে তার মৃ’ত্যু হয়।

এদিকে হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুলকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে ঢোকানো হয়।

তাকে হাসপাতালের ছয়জন কর্মচারী মিলে মাটিতে ফে’লে চে’পে ধরেন। এর পর আরও দুজন কর্মচারী তার পা চে’পে ধরেন।

এ সময় মাথার দিকে থাকা দুজন কর্মচারীকে হাতের কনুই দিয়ে তাকে আ’ঘাত করতে দেখা যায়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

একটি নীল কাপড়ের টুকরা দিয়ে আনিসুলের হাত পেছনে বাঁ’ধা হয়।কিছুক্ষণ পর আনিসুলকে উপুড় করা হয়। তার শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ায় একজন কর্মচারী তখন তার মুখে পানি ছিটান। পরে কর্মচারীরা কক্ষের মেঝে পানি দিয়ে পরিষ্কার করেন।

সাত মিনিট পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা একজন নারী কক্ষে প্রবেশ করেন। ১১ মিনিটের মাথায় কক্ষের দরজা লাগিয়ে দেয়া হয়। ১৩ মিনিটের মাথায় তার বুকে পাম্প করেন সাদা অ্যাপ্রোন পরা নারী।

হৃদরো’গ ইন্সটিটিউটের খাতায় লেখা রয়েছে ‘ব্রট ডেড’ অর্থাৎ সেখানে নিয়ে আসার আগেই আনিসুলের মৃ’ত্যু হয়েছিল।

আনিসুলের ভাই রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, পারিবারিক ঝামেলার কারণে তার ভাই মা’নসিক স’মস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার সকালে তারা তাকে নিয়ে মাইন্ড এইড হাসপাতালে যান।

তিনি জানান, কাউন্টারে ভর্তির ফরম পূরণের সময় হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী আনিসুলকে দোতলায় নিয়ে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here