আশি বছর বয়সী হাজেরা বেগম। প্রায় দুই যুগ আগে স্বামী আশ্রাফ আলীকে হারিয়েছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বুকে আগলে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

শত কষ্টেও কারো কাছে হাত পাতেননি। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা এখন ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে একাকী, নিঃসঙ্গ,

মানবেতর জীবন কাটছে অশীতিপর এই বৃদ্ধার।ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মঠবাড়ি ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামে স্বামীর ভিটায় থাকেন হাজেরা বেগম।

লোকমুখে শুনেছেন, সরকার বয়স্কদের সবাইকে ভাতা দিচ্ছে! এ খবর শোনার পর থেকেই হাজেরা বেগমের একটাই প্রশ্ন, আমার ভাতা কই?

কীভাবে জীবনযাপন করেন? জানতে চাইলে হাজেরা বেগম বলেন, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিবেশীদের গাছের পড়ে থাকা সুপারি,

লাকড়ি (জ্বালানী কাঠ) কুড়াই। সেই সুপারি-লাকড়ি নিয়ে লঞ্চঘাটে এসে দোকানে দিলেই ওরা আমাকে চা খেতে দেয়। আমার কাছে তো টাকা নেই,

তাই চা কিনে খেতে পারি না। ভাত সব সময় জোটে না, তাই চা আর রুটি খেতেই দিন চলে যায়।’সন্তানদের কথা জানতে চাইলে কণ্ঠ ভারী হয়ে

আসে হাজেরার। ভিজে যাওয়া চোখে হাজেরা বলেন, সন্তানেরাও দরিদ্র, তবুও ওরা যখন যা পারে তাই দেয়। শুনেছি সরকার দরিদ্র মানুষদের চাল,

বিধবাভাতা, বয়স্কভাতা দেয়। কিন্তু আমি পাই না। মেম্বরের কাছে বহুবার বলেছি কিন্তু কিছুই দেয়নি। তবুও কারও প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই।

কখন মরে যাই জানি না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও যদি বয়স্কভাতাটা পেতাম, তাহলে সুপারি-লাকড়ি কুড়িয়ে আমাকে চা-রুটি খেতে হতো না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. মজিবর মোল্লা বলেন, হাজেরা বেগম তাঁর ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে ফেলেছেন।

তাই তাঁকে সরকারি এসব সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদার বলেন, হাজেরা বেগমের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত তাঁকে

বয়স্কভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল বলেন, আমাদের দপ্তরে যোগাযোগ করলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলে হাজেরা বেগমের ভাতার ব্যবস্থা করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here