করোনা মহামারিতে প্রায় নিস্তব্ধ বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ সারাদেশ। সেই নিস্তব্ধতা গিলে খেয়েছিল এক স্বপ্নবাজ কলেজ ছাত্রীর আত্মচিৎকার। নগরের সিটি হেলথ

ক্লিনিকে হাতুড়ে নার্স দিয়ে গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয় কলেজ ছাত্রী রিফাত সুলতানাকে (২৫)। একটি সম্ভাবনাকে হত্যার

পর ছড়ানো হয় করোনার গুজব। যে কারণে মেয়ে নিহতের শোক ভোলার আগেই লাশ দাফনে চরম বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয় নিহত রিফাতের পরিবারকে।

রিফাতের মৃত্যুর প্রায় ছয়মাস পর বুধবার (১১ নভেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের সিটি হেলথ ক্লিনিকের ওই হাতুড়ে নার্স, হাসপাতালের পরিচালকসহ চারজনকে

(৪৩)। এর আগে ঘটনার পরপরই গ্রেফতার করা হয়েছিল রিফাতের কথিত বন্ধু জিসানকে।এদিকে আসামিদের গ্রেফতারের পর নগরীর চকবাজার

এলাকার অবস্থিত সিটি হেলথ্ ক্লিনিকটি আদালতের নির্দেশে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ

(সিএমপি) দক্ষিণের ডিসি মেহেদী হাসান জানান, চকবাজারের সিটি হেলথ্ ক্লিনিকের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। হাসপাতালের কথিত

পরিচালক হারুনর রশিদ কয়েকজন হাতুড়ে আয়া ও নার্স দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালনা করছিলেন।গত ১৫ মে কলেজছাত্রী রিফাতের অবৈধভাবে গর্ভপাত

ঘটানোর চেষ্টা করে আসামিরা। এ সময় হাতুড়ে নার্সের সাহায্যে রিফাতের গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু হাসপাতালের পরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা

ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিহতের পরিবারকে করোনায় রিফাতের মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়। অভিযুক্ত জিসান এই গুজব ছড়িয়ে দেয় রিফাতের গ্রামের বাড়িতেও।

যার কারণে অপচিকিৎসায় মৃত্যু হলেও রিফাতকে দাফনে বেগ পেতে হয় তার পরিবারকে।ডিসি মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল গর্ভপাত

ঘটাতে গিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু হয়। গত চারমাস ধরে আমরা মূল রহস্যটি উৎঘাটন করেছি। ঘটনাটি এমন, গত মে মাসের ১৪ তারিখে রিফাতকে ওই

হাসপাতালে নিয়ে আসে চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য। এই ধরনের সেবা যে ধরনের চিকিৎসক দিয়ে করানো প্রয়োজন, আমরা তদন্তে পেয়েছি সেই ধরনের

কোনো চিকিৎসক বা নার্স সেখানে নেই। এই চিকিৎসা করেছে দুইজন নার্স ও একজন আয়া যাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই, যারা দেখে দেখে এসব শিখেছে ওই

হাসপাতালে। এই অপচিকিৎসার কারণে মেয়েটির মৃত্যু ঘটে।’তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে আশ্চর্যজনক কথা হলো, এই হাসপাতালের পরিচালক নিহতের অভিভাবকদের

ডেকে নিয়ে বলে আপনার মেয়ের করোনা হয়েছিল এবং করোনার কারণে তিনি মারা গেছেন। অভিভাবক প্রথমে বিভ্রান্ত ছিলেন, পরবর্তিতে তারা

জানতে পারেন গর্ভপাত করতে গিয়ে তাদের মেয়ে মারা গেছে তখন তারা হত্যা মামলা দায়ের করেন।’আসামিদের স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,

‘এই অপচিকিৎসা করানোর সময় কথিত নার্সরা যখন বারবার ডাক্তার ডাকার অনুরোধ করলেও তিনি সেটি করেননি। বিষয়টি অবহেলার নয়,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here