আন্তর্জাতিকঃ বাড়িতে কালীপুজো হওয়ার কথা। প্রতিমার বরাত দেওয়া, দশকর্মার অর্ধেক বাজার সারা। সোমবার রাতে ছেলেকে নিয়ে নিমন্ত্রণ খেয়ে ফিরে হাসিমুখেই সপরিবার দোতলার ঘরে

ঘুমোতে গিয়েছিলেন আরপিএফের কনস্টেবল। ভোরে তাঁর কি’শোরী মেয়ের ফোন পেয়ে ওই ঘরে যান আত্মীয়েরা। খাটের উপরে পোড়া দেহ মেলে ওই কনস্টেবল সুদেবচন্দ্র দে (৩৯),

তাঁর স্ত্রী রেখা দে (২৮) এবং ছেলে স্নেহাংশুর (৮)। ওই ঘরের এক কোণে বসেছিল সুদেববাবুর বছর এগারোর মেয়ে। প্রাথমিক ত’দন্তে পুলিশের অনুমান, স্ত্রী,

ছেলে এবং নিজের গায়ে আ’গুন দেন ওই কনস্টেবল। খু’নের মা’মলা রুজু করছে পুলিশ। তবে কী কারণে এই ঘটনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা। বাসুদেববাবু বলেন, ‘‘ভাইয়ের সঙ্গে পুজো নিয়ে আলোচনা হল। ও ছেলেকে নিয়ে নিমন্ত্রণ খেয়ে ফেরার পরেও কথা হয়। তার পরে সবাই শুতে চলে যাই।

মা আর আমরা নীচতলায় আর ভাই দোতলায় ছিল। মাঝরাতে এই কাণ্ড!’’ওই পাড়াতেই থাকেন প্রতীক দে। সুদেববাবুদের আত্মীয় তিনি। তাঁর দাবি, সুদেববাবুর মেয়ে ফোন করে তাঁকে।

প্রতীকবাবু বলেন, ‘‘সবাই ঘুমোচ্ছিলাম। হঠাৎ ফোন ওই কি’শোরী। ও বলে ‘কাকু মা-বাবা-ভাই পুড়ে মা’রা গিয়েছে। তুমি আমাকে বাঁচাও’। ছুটে বেরিয়ে ও বাড়ি যাই।’’ জানা গিয়েছে,

ভোর সওয়া ৩টে নাগাদ তিনি এসে ডেকে তোলেন বাসুদেববাবুদের। দোতলায় গিয়ে তাঁরা দেখেন, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। শুধু পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী কি’শোরীর গ’লা পাওয়া যাচ্ছে। তাঁদের দাবি,

দরজা বন্ধ করে আলমারি রেখে দেওয়া হয়েছিল সামনে। কোনও রকমে ফাঁক করে দরজার একটা পাল্লা ভে’ঙে মেয়েটিকে উ’দ্ধার করা হয়। অন্ধকার, ধোঁয়া ভরা ঘরে খাটে পাশাপাশি পড়েছিল বাকি তিন জনের দেহ।

পুলিশ এসে চার জনকেই মন্তেশ্বর প্রাথমিক স্বা’স্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। তিন জনকে মৃ’ত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। মেয়েটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কারও সঙ্গেই কথা বলতে চাইছে না সে।

মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে যান জে’লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাস, এসডিপিও (কালনা) শান্তুনু চৌধুরী। ঘরটি সিল করে দেওয়া হয়। ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন কাটোয়ার আরপিএফের ইনস্পেক্টর বিবেক সিংহ।

তিনি বলেন, ‘‘পাঁচ বছর ধরে কাটোয়ায় কাজ করছেন সুদেব। আমাদের ধারণা, ব্যক্তিগত কোনও কারণ থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে।’’ ঘটনার কারণ নিশ্চিত ভাবে জানাতে পারেনি পুলিশও। তবে পুলিশের দাবি,

লটারির টিকিট কা’টা, জু’য়ায় আগ্রহ ছিল ওই কনস্টেবলের। বেতনের অর্ধেক চলে যেত ব্যাঙ্ক ঋ’ণের মাসিক কিস্তি শোধ করতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here