নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ফাতেমা আক্তার খুনের রহস্য চার মাস পর উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেফতার করা হয়েছে এ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ঘাতক প্রেমিক ইউনুছ আলীকে।শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ

সুপার মো. মনিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে ইউনুছ আলীকে নিশ্চিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রেমিক ইউনুছ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুর ভারতীয় সীমান্তবর্তী পাহারী এলাকা থেকে।

পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, ফাতেমা আক্তার আড়াইহাজার উপজেলার মানিকপুরে মামা ইলিয়াস মোল্লার বাড়িতে থাকতেন।

তাদের প্রেমের সর্ম্পকটি দুই বাড়ির লোকজন জেনে যায়। এরই মধ্যে বাড়ি পরিবর্তন করে ইউনুস আড়াইহাজার বিশনন্দী ভেংলায় নতুন বাড়িতে চলে যান।

এরপর থেকে বিয়ের জন্য ইউনুসের বাড়ি থেকে পাত্রী খোঁজা শুরু করে দেয়। কিন্তু ফাতেমা নিজে গর্ভবতী হওয়ার আশঙ্কা

এবং ইউনুছের জন্য কনে দেখার বিষয় জানতে পেরে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু বিয়েতে ইউনুছ রাজি ছিলেন না।

গত ১০ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে ফাতেমাকে ডেকে নেন ইউনুছ । বিভিন্ন জায়গা ঘুরে শেষে ফাতেমাকে নিজেদের নতুন বাড়ির পেছনে গাছগাছালি বেষ্টিত জায়গায় রেখে বাড়ি যান ইউনুছ।

পরে রাত ২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফাতেমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে ফাতেমাকে হত্যা করেন।

পরে সেখান থেকে ডালিমের নির্মাণাধীন ঘরের বালু ভর্তি ভিটিতে এনে গর্ত করে তার মধ্যে ফাতেমার লাশ পুঁতে দেন।

পরের দিন ইউনুছ ঘরের মালিক ডালিম ও তার মা শরিফাকে জিজ্ঞাসা করেন, কবে তারা ভিটি পাকা করবেন। যদি টাকা লাগে ইউনুছ তাদের টাকা দেবেন।

গত ১৫ আগস্ট ডালিম ঘরের কাজ করার সময় ভিটি থেকে দুর্গন্ধ পান এবং কোদাল দিয়ে বালু সরাতে ফাতেমার অর্ধপচা লাশ দেখতে পান।

এলাকার লোকজনদের খবর দিলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় এবং অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে শুরু করে তদন্ত।

গত ৮ অক্টোবর পিবিআই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিলেটের জৈন্তাপুর থানার বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি

এলাকায় এক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে আসামি ইউনুছ আলীকে গ্রেফতার করে। এরপর আসামিকে নিয়ে ১০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ

আড়াইহাজার থানা এলাকায় অভিযান করে যে কোদাল দিয়ে গর্ত করে ফাতেমার লাশ বালু চাপা দেয়া হয় সেই কোদাল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে ফাতেমার ব্যবহৃত মোবাইল, সিম, জাতীয় পরিচয়পত্র, গলার হার, কানের ফুল, হাত ব্যাগ ও ওড়না গোপালদী বাজার গাজীপুরা ব্রীজ

থেকে হাড়িদোয়া নদীতে ফেলে দেন বলে জানিয়েছেন ইউনুছ। তবে উল্লেখিত স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here