তমা ইসলাম (ছদ্মনাম)। রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা এই শিক্ষার্থী দেশের নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের স্নাতকের ছাত্রী।

তিনি বর্তমানে যৌ’ন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। নিজের জীবনের নানান ধাপে ধাপে অনেক ধরনের নি’র্যাতন সয়ে আজ তাকে এ পথে নামতে হয়েছে।

আর বাকি পাঁচজনের মতোই ছিলো তমা’র জীবন। কিন্তু তার বাবার ব্যবসায়ে ক্ষ’তি হওয়ার পর উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো তমা’র জীবনে নেমে আসে কালো ছায়া।

তমা’র বাবার রাজধানীর মিরপুরে একটি কাপড়ের দোকান ছিলো। কিন্তু তার বাবার ব্যবসায়ীক পার্টনার তাদের সাথে প্রতারণা করে তমা’র পরিবারকে নিঃস্ব করে। ওই ব্যক্তি হাতিয়ে নেন তমা’দের ২৫ লক্ষ টাকা।

তিনি তার পরিবারের অবস্থা আর নিজের পড়াশোনার জন্য চাকরির সি’দ্ধান্ত নেন। কয়েকটি চাকরির ওয়েবসাইট ঘুরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি দেন তমা।

কিন্তু দিনের পর দিন পার হলেও তিনি কোথাও ডাক পান না। এ অবস্থায় মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েন সদ্য উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো এই ছাত্রী।

মাসখানেক পর হঠাৎই একটা কল আসে তমা’র কাছে। একটি প্রতিষ্ঠানে তমাকে চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়। তমা সময় মতো গু’লশানের ওই অফিসে হাজির হন।

তমাকে তখন সাধারণ কিছু প্রশ্নের পর জানানো হয় এটা একটি বিউটি পার্লারের কাজ। স্পা করাতে হবে নারীদের।তমা দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজেও কোনো উপায়ন্ত না পেয়ে তাদের প্রস্তাবে রাজি হন।

ভাবলেন তাও একটা কাজ তো পেয়েছেন। ওইদিনের মতো তমাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় পরবর্তী তারিখ দিয়ে। জানানো হয় পরবর্তী দিন ওই অফিসের ‘বস’ তমা’র ইন্টারভিউ নিবেন। তিনি ফাইনাল করলেই তমা’র চাকরি হবে।

পরবর্তী তারিখে তমা সময় মতো ওই লোকের দেওয়া ঠিকানায় উপস্থিত হন। পরে তাকে ‘হোটেল রে’ডিশনের’ একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে গিয়ে তমা দেখতে পান এক লোক সোফায় বসে আসেন। তমা’র যেহেতু চাকরির পূর্ব অ’ভিজ্ঞতা ছিলো না তাই তিনি তেমন কিছুই আঁচ করতে পারেননি যে, তার সাথে কী ঘটতে যাচ্ছে!

এরপর তমা যেই লোকের সাথে হোটেল পর্যন্ত গেলেন তিনি রুমে থাকা লোকের কাছে তমাকে রেখে ‘কানে কানে’ বলে যান ইনি আমা’দের ‘বস’।

তাকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই চাকরি কনফার্ম।সদ্য উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার করা তমা তখনও কিছু বুঝতে পারেননি। এরপর রুমে ওই লোক জোর জবরদ’স্তি করে তমাকে ‘ধ’র্ষণ’ করেন।

শুরু হয় তমা’র জীবনের নতুন অধ্যায়।তমা তার জীবনের এই অনাকাঙিক্ষত ঘটনা কাউকে বলতে পারেননি। তার পরিবারের লোকের পাশে তখন তার দাঁড়ানো দরকার ছিলো- এর ওপরে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি,

ছোট ছোট তিনটা ভাই-বোনের দিকে তাকিয়ে তমা সেদিন প্রতিবাদ করতে পারেননি। কিন্তু তমা’র জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় সেখান থেকেই।

তমা সেদিনকার মতো বাড়িতে ফিরে আসেন এবং আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে অন্ধকার জগতের পথ বেছে নেন তমা।

তমা বাড়ি ফেরার দুই-একদিন পর ওই লোকেরা তার সাথে আবার যোগাযোগ করেন। জানান, তমা চাইলে তারা প্রতিমাসে তাকে তিনটা কাজ দিবে।

এর জন্য তমাকে মোটা অ’ঙ্কের টাকা দেওয়া হবে। তমাও রাজি হয়ে যান তাদের শর্তে। তমা’র দাবি, তার সামনে অন্য আর কোনো উপায় ছিলো না!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here