কথায় আছে প্রকৃতিকে যতটা যত্ন করবেন তার থেকে দ্বিগুণ আপনি ফিরে পাবেন। ঠিক তেমনই এই বগ বডি। বগ বডি হচ্ছে মমি।

প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালে তৈরি এই বগ বডির রহস্য মানুষকে প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তুলছে। মমির কথা শুনলেই মরুভূমির মধ্যে হাজার হাজার বছর ধরে পিরামিডে বন্দি থাকা ফারাওদের মনে পড়ে।

তবে সেসব তো বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হত। সেখানে বগ বডি প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হয়।

সবশেষ পাওয়া বগ বডিটি হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের হাতে নিহত রুশ সৈন্যের দেখে মনে হবে রূপালী – ধূসর শরীরের

এ পর্যন্ত কতোগুলো বগ বডি পাওয়া গিয়েছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই কারো কাছেই। এযাবত আবিষ্কৃত বগ বডিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো হচ্ছে কোয়েলবার্গ নারী।

এই মমিটি পাওয়া গিয়েছিল ডেনমার্কের কোয়েলবার্গ অঞ্চলে। আর বিজ্ঞানীদের দেয়া তথ্য অনুসারে এই নারীর জন্ম খ্রিস্টের জন্মের ৮ হাজার বছর আগে। অর্থাৎ এই বগ বডির বয়স দশ হাজার বছরেরও বেশি।

সবচেয়ে বেশি বগ বডি পাওয়া গেছে উত্তর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে জার্মানি, ডেনমার্ক, হল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে। এ বগ বডিগুলো বিশ্লেষণ করে জানা গেছে,

এরা সবাই লৌহযুগের মানুষ। এদের কারোরই মৃত্যুই স্বাভাবিক হয়নি। এ পর্যন্ত কতগুলো বগবডি থাকতে পারে তার কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

তবে কোনো মতদেহগুলোর শরীরে পোশাক ছিল না। এসব বিশ্লেষণ করে বেশির ভাগ প্রত্নতত্ত্ববিদ ধারণা করেন বগ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করে পিট বগে ফেলে রাখা হয়েছিল ।

তখন হয়তো কেউ জানতই না এখানে ফেলে রাখলে মৃতদেহ সংরক্ষিত থেকে যায়। তবে কী কারণে হত্যা করা হয়েছিল এদের?

তার সঠিক কোনো তথ্য নেই। কারো মতে হয়তো দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলি দেয়া হয়েছিল এদের। আবার কেউ বলেন কোনো অপরাধের

কারণে এদের হত্যা করা হয়েছে। ঘটনা যাই হোক না কেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব মৃতদেহের স্থান হত পিট বগে।

রেড ফ্রাঞ্জ নামে আরেক বগ মানুষের ছিল লাল চুল ও লাল দাড়ি , গলায় তার দীর্ঘ একটি কাটা দাগ। ধারণা করা হয়, তার মৃত্যু হয়েছে আজ থেকে দুই হাজার বছর আগে ।

অনেক চেষ্টা করেও মেলেনি কোনো উত্তর। তবে কখন কোথায় কোন জলাভূমিতে এই মমি উদ্ধার হবে তার কোনো ঠিক নেই।

এই মমিগুলো কীভাবে হাজার হাজার বছর পেরিয়ে টিকে আছে তা এক রহস্যই বটে। যেখানে আসল মমির রহস্যই আজ পর্যন্ত আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি,

সেখানে হাজার বছর বয়সী এই মমিগুলো মানুষের মনে রহস্য ও আগ্রহের জন্ম দেবে এটাই স্বাভাবিক মিশরীয় মমিগুলোর বয়স পাঁচ- ১০ হাজার বছরেরও বেশি।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এগুলোই হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো বা বয়স্ক মমি। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। আশ্চর্য হলেও সত্য এর চেয়ে বেশি বয়সী মমিও পৃথিবীতে রয়েছে।

আর তার চেয়েও বড় বিষয় মিশরীয় কারিগরদের মতো এসব মমিগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো স্রষ্টা নেই। মানুষের চেষ্টা ছাড়াই তৈরি হয়েছে ওগুলো!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here