দিনের আলো নিভে গেল; রাত নেমেছে। আস্তে আস্তে অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে চার পাশ। ছুটে চলা গাড়ির হর্ন আর রেলের ঝিকঝিক ছন্দে গন্তব্যে যাচ্ছে ক্লান্ত মানুষেরা।

শুধু ক্লান্তি নেই এই জনপদের বাসিন্দাদের। এখানে রাত নামে না, নামে হাজারো স্বপ্নের কফিন। হাজারো দীর্ঘশ্বাসের দেহ পসরা বসে।

ব্যস্ত তারা পসরা আকর্ষণীয় সস্তা মেকাপের প্রলেপে। প্রেমহীন এই জনপদের সবাই ভিন্ন জগতের বাসিন্দা।

এই জগতের বাসিন্দাদের কোনো ভেদাভেদ নেই। তারা টাকার বিনিময়ে নতুন করে বাসর সাজায়। সোহাগ বিক্রি করে। সমাজ যাকে ডাকে পতিতা বলে।

বাধ্য হয়েই সংসারের হাল ধরতে হলো মেয়েটিকে। এলাকার এক আপা গার্মেন্টসে চাকরি করত। তার সঙ্গেই গার্মেন্টে চাকরিতে যোগ দেয় স্বপ্না। বছরখানেক পরে ভালো বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে

এক দালাল তাকে ধরে এনে বিক্রি করে দেয় দৌলতদিয়ার পতিতালয়ে। এরপর থেকেই সে অন্ধকার জগতের বাসিন্দা। এভাবেই কেটে যাচ্ছে তার জীবন নামের রেলগাড়িটা।

নারী পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে টাঙ্গাইলের এক পতিতালয়ে বিক্রি হওয়া একজন কিশোরী রানী (ছদ্মনাম)। জন্মের পর বাবা-মা আদর করে

একটি নাম রাখলেও সেটি হারিয়ে গিয়েছিল নারী পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে। পতিতালয়ে ওকে দেয়া হয়েছিল এই রানী নামটিই।

প্রায় ছয় মাস এই পতিতালয়ের চার দেয়ালের মাঝে প্রতিদিন ভোগের পণ্য হয়ে বন্দী জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অদম্য বাসনায় মুক্তি মিলেছে তার।

রানীদের মতো আরো শত শত মেয়ে এখনো প্রতিদিন বোবাকান্না করে যাচ্ছেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে।

পতিতালয়ের চার দেয়ালে বন্দী ওদের কান্না শোনার মতো যেন কেউ নেই। মুক্তির পর রানীর জবানবন্দীতে জানা গেছে এসব তথ্য।

রানীর ভাষ্য মতে, মোবাইল ফোনে পরিচয়, প্রেম; অতঃপর বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় সংসার পাতেন রানী। ছেলেটির বাড়ি টাঙ্গাইল সদরে, শুধু এটুকুই জানতেন রানী।

বিয়ের সপ্তাহখানেক পরে তার স্বামী বলে তাদের বিয়ে তার পরিবার মেনে নিয়েছে। তাই আজ রাতেই তারা টাঙ্গাইল যাবে। খবরটি শুনে আনন্দে রানীর চোখে জল এসে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here