কাতারের প্রতিবন্ধী কিশোর গানিম আল মুফতার। দুই পা ছাড়া এক চতুর্থাংশ শরীর নিয়ে জন্ম হয়েছিল তার। হুইল চেয়ারে করে চলাচল করে সে।

পবিত্র কাবা প্রাঙ্গনে এসে গানিম ইসলাম ধর্মের প্রতি আবেগঘন ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে। হুইল চেয়ার ছাড়া শুধু দুই হাতে ভর দিয়ে কাবা তাওয়াফ করেছে সে।

গত শুক্রবার মাগরিব নামাজের সময় সাতবার কাবা তাওয়াফ করে প্রতিবন্ধী গানিম। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এই তাওয়াফের ভিডিও প্রচারের পর বেশ সাড়া পড়েছে।

কিশোর গানিমের স্বপ্ন ছিল নিজহাতে পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফ করা এবং পবিত্র হাজরে আসওয়াদ পাথরে চুম্বন করা।

তার পরিবারের সদস্যদের মক্কায় পৌঁছানোর পর থেকে ওমরা পালনের শেষ পর্যন্ত নি’রাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। মক্কায় গানিমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রিন্স সুলতান।

এছাড়া মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম শেখ মাহের আল-মুয়াকলির পেছনে গানিমদের নামাজ পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।

প্রতিবন্ধী গানিম হাত দিয়ে ভর দিয়ে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করতে পারায় দারুণ খুশি।এ জন্য প্রিন্স সুলতান ও শেখ মাহেরে প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এই কিশোর।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সারাজীবন ফ্রি চিকিৎসা দিয়েছেন এই ডাক্তার

পিতার ইচ্ছানুযায়ী যুবক বয়স থেকেই মিসরের তানতা শহরের ছোট একটি ক্লিনিকে দরিদ্র মানুষকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন মুহাম্ম’দ মাশালি।

যদিও তিনি কারও কাছ থেকে ফি নিতেন—সেটা মিসরীয় ১০ পাউন্ডের বেশি নয়। আজ থেকে ৪০ বছর আগে মৃ’ত্যুশয্যায়

পিতা আব্দুল গফফার মাশালি চিকিৎসক পুত্র মুহাম্ম’দ মাশালিকে এই উপদেশ দেন যে, আজীবন পুত্র যেন অ’সহায় মানুষকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়ে জীবনকে দরিদ্র মানুষের জন্য নিবেদন করেন।

পিতার ইচ্ছানুযায়ী তিনি তা-ই করেছেন।একসময় পর্দার আড়ালের এই মহা’নায়ককে মিসরের জনগণ-ই ভালোমতো চিনতো না।

কিন্তু যিনি দেশের অ’সহায় ও অস্বচ্ছল মানুষের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে এত বড় সেবা দিলেন—মৃ’ত্যুর আগে সৃষ্টিকর্তা তাঁকে বিশ্বব্যাপী বিপুল পরিচিতি দান করলেন।

দেশ ছাপিয়ে আজ পৃথিবীর নানাপ্রান্তের মানুষের মুখেমুখে ছড়িয়ে পড়েছে মানবতার এই চিকিৎসকের নাম ও কর্মের প্রশংসা।

মুহাম্ম’দ মাশালি তানতায় যখন নিজ চেম্বারে বসতেন, তখন তাঁর ক্লিনিকের সামনে গরিব রো’গীদের লম্বা লাইন ছিল দৈনন্দিনের চিত্র।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রো’গীরা ফ্রি কিংবা অল্প ফি-তে চিকিৎসা নিতেন। এমনকি অনেক রো’গী এবং তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও দিতেন তিনি।

ড. মাশালি কেন এমন জীবন বেছে নিলেন জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তাঁর পরিবারও যথেষ্ঠ স্বচ্ছল ছিল না,

অস্বচ্ছলতার ক’ষ্ট তিনি বুঝতেন। সেই উপলব্ধি থেকেই অস্বচ্ছলদের সঙ্গে চলার পথ বেছে নেওয়া।এই চিকিৎসক তানতায় হঠাৎ ব্লাডপেশার হ্রাসের কারণে ইন্তেকাল করেন।

১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণকারী ৭৫ বছর বয়সী এই গরিবের বন্ধু পৃথিবীকে বিদায় জানালেও এখনও তাঁর মিশন অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here