হত্যার ছয় বছর পর ফরেনসিক পরীক্ষায় বেরিয়ে এল অপরাধীর পরিচয়। গর্ভের ভ্রূণের ডিএনএর মাধ্যমে হত্যাকারীকে শনাক্ত করে সিআইডি।

এর ফলে বেরিয়ে আসে রংপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর কাহিনি।সারা বিশ্বেই বড় বড় অপরাধের রহস্য উদঘাটন হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে।

এবার রংপুরের ছয় বছর পুরনো এক হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদ হলো এই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যেমেই। মৃত কিশোরীর গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় নির্ধারণের পরই বেরিয়ে আসে অপরাধীর পরিচয়।

২০১৪ সালের ৮ মার্চ রংপুরের পীরগঞ্জে নিজ বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ১৫ বছরের ফাতেমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এরপর ময়নাতদন্তে পাওয়া ভ্রূণ থেকে ডিএনএ নিয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। তিন ধাপে ১৪ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এর মধ্যে মিলে যায় চাচাতো ভাই শিপনের নমুনা।সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) রুমানা আক্তার বলেন,

ভিকটিমের মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তখন দেখা যাচ্ছে ভিকটিম ছিল প্রেগন্যান্ট। সিআইডি যখন মামলাটা অধিগ্রহণ করে তখন

সিআইডির যে তদন্তকারী কর্মকর্তা উনি আমাদের কাছে সাতজনের সাসপেক্ট পাঠালেন এবং সাতজনের সাসপেক্ট থেকে ভিন্ন ভিন্ন নমুনা সংগ্রহের পর ডিএনএ প্রোফাইল করলাম।

তখন দেখা গেল সাতজন সাসপেক্টের মধ্যে একজন ছিল ভিকটিমের চাচাতো ভাই। চাচাতো ভাইয়ের যে ডিএনএ প্রোফাইল আমরা পেলাম

তখন আমরা দেখলাম ফিটাসে যে ডিএনএ প্রোফাইল এই ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যাচ্ছে।

শিপন জবানবন্দিতে বলে, ফাতেমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল সে। এক দুপুরে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে ফাতেমাকে ধর্ষণ করে। এরপর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে কিশোরী।

ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই গলা টিপে খুন করার পর আত্মহত্যা হিসেবে সাজায় শিপন।সিআইডির ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম বলেন,

প্রথমে ফাতেমার ঝোলানো লাশ উদ্ধার করা হয়। তারপর লাশ মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসছে গলা টিপে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

ফরেনসিক টেস্টের মাধ্যমে আসামি খুঁজে বের করার এ ঘটনায় অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলেও জানায় সিআইডি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here