বড় ছেলে আরিফ ইফতেখার সুপ্ত রাজশাহীতে ব্যবসা করেন। পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকেন তিনি। মেঝো ছেলে ঢাকাতেই একটি বেস’রকারি ব্যাংকে কাজ করেন।

আর ছোট ছেলে এই দিহান। ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল শেষ করে জিইডি’র প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে।

ক’রোনার প্র’কোপ শুরুর পর থেকে রাজশাহীতেই থাকেন আব্দুর রউফ। চার বেডরুমের এই বাসাতে দুই ছেলেকে নিয়ে নিয়মিত থাকেন মা সানজিদা।

দিহানকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন ছিল তাদের। ক’রোনা না হলে গত বছরই দেশের বাইরে চলে যেতো দুই ভাই। পরিবারের পক্ষ থেকেও চলছিল এমন প্রস্তুতি।

আমরা আসলে লজ্জিত। লজ্জিত কারণ আমরা এ ঘটনার কিছুই জানি না।দিহানের ভাই নিলয় স’রকার বলেন,

ও যে মেয়েটার সঙ্গে প্রেম করতো গত দুদিনে আমরা তার বন্ধু-বান্ধবীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। এর আগে শুধু জানতাম, ও প্রেম করে।

তবে কার সঙ্গে করে সে বি’ষয়টা জানতাম না।ঘটনার দিনের বর্ণনায় পরিবার যা বলছে দিহানের মেঝো ভাই নিলয় স’রকার বলেন, সকালে উঠে অফিসে চলে গিয়েছি।

বগুড়াতে আমার নানা অ’সুস্থ, মা সেদিন সকালে নানাকে দেখতে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। আমার এক চাচা আবার ওইদিনই মা’রা যান।

রাজশাহীতে জানাজা হয়েছে। আমার বাবা সেখানে ছিলেন। বাসা সেদিন একদম ফাঁকা ছিল। হঠাৎ দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে দিহান আমাকে ফোন দিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে কথা বলে।

জীবনে ওকে আমি কখনও কা’ন্না করতে দেখিনি। ফোন দিয়ে বলে, ‘ভাইয়া বাসায় বান্ধবীকে নিয়ে এসেছিলাম। অজ্ঞান হয়ে গেছে।

হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। তুমি আসো, তুমি ছাড়া আমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।’দিহানের ভাই বলেন, আমি ভয় পেয়ে যাই।

তখনই আমার কর্মস্থল থেকে বের হয়ে এসেছি। দিহান বারবার ফোন দিচ্ছে ‘ভাইয়া তুমি দ্রুত আসো।’ পরে দুপুর ১টা ৫০-এর দিকে আবার ফোন করে।

তখন বলে, ‘ভাইয়া ও তো মা’রা গেছে’। তখন আমি বলি, ‘কে মা’রা গেল ঠিকঠাক মতো বলো’। দিহান বলে, ‘তুমি হাসপাতালে চলে আসো দ্রুত।’

নিলয় বলেন, আমি আইন অনুযায়ী বিচার চাই। আমরা যতটুকু মনে করি, এটা ধ”ণ না। যদি আমার ভাই ধ”ণ করতো, সে কখনও আমাকে ডাকতো না।

দিহানের মা সানজিদা স’রকার বলেন, বিচারে যদি প্রমাণ হয় দিহান আ’সামি, যা শা’স্তি হবে আমরা মেনে নেবো।

কিন্তু আপনারা আমাদের পরিবারকে এভাবে অ’পমান করতে পারেন না। আমার নিজের সম্পর্কেও অনেক পত্রপত্রিকা বাজে মন্তব্য করছে।

এভাবে বলা ঠিক না। আমাদের সঙ্গে একটা মানুষ দেখা করতে আসেনি। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তারাও কথা বলছেন না।

কেউ দেখাও করছে না। মিডিয়া আমাদের পুরো পরিবারকে দোষ দিচ্ছে। এখানে আমাদের পরিবার কিভাবে অ’পরাধ করলো?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here