সুইমিং পুল। সাঁতার কাটছেন দু’জন। স্বল্পবসনা তরুণী। স্লিম, লম্বা, শ্যাম বর্ণের মেয়েটির আনন্দের শেষ নেই। প্রেমিকের সঙ্গে বেড়াতে এসেছেন।

ঢাকা থেকে সিলেটে। শাহজালাল উপ-শহর এলাকার একটি তারকা হোটেলে ওঠেছেন দু’জন। প্রেমিক ছেলেটির নাম জুয়েল মাহবুব।

দেখতে লম্বা না হলেও বেশ সুদর্শন। অনেকটা বোম্বের হিরোদের মতো। তরুণী মেয়েটির নাম তাহমিনা তাবাসসুম। একটি প্রাইভেট মেডিকেলের ডাক্তার।

জুয়েল বারবার পুল থেকে ওঠে ছবি, ভিডিও ধারণ করছে। কখনও সেলফি। ক্যামেরা তাক করে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরছে ডাক্তার তাহমিনাকে। ভেজা কাপড়ে তখন চরম আবেদনময়ী তিনি।

ওই হোটেলে থাকাকালে যে ভিডিও ধারণ করা হয় তা পর্নোমুভির চেয়েও কম না। শেষ পর্যন্ত ওই ডাক্তার মেয়েটির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জুয়েল মাহবুবকে।

উদ্ধার করা হয় হাজার হাজার ছবি ও কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পুরো বর্ণনা দিয়েছে জুয়েল।

প্রথম দেখাতেই সিলেটে বেড়াতে গিয়েছিলেন জুয়েল-তাহমিনা। তিন রাত ছিলেন ওই তারকা হোটেলে। সেখানেই পর্নো স্টাইলে বিভিন্ন ভিডিও ধারণ করা হয়।

ভিডিওগুলোর বেশিরভাগই গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত। অবশ্য দু’জনের দেখা হওয়ার আগেই পর্নো বিষয়ে জুয়েল বেশ শিখিয়েছে তাহমিনাকে।

ভার্চুয়াল শিক্ষা। চ্যাট করতো রাতভর। কথা হতো অডিও, ভিডিও কলে। তারপর দুপুর পর্যন্ত ঘুম। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারে পর্নোভিডিও পাঠাতো জুয়েল।

পাঠাতো এ ধরণের ছবি। শুরুতে তাহমিনা বকা দিতেন খুব। তবুও থামতো না জুয়েল। যদিও কৌতূহল ছিলো তাহমিনারও। এভাবেই প্রশিক্ষিত হয়ে ওঠেন এই ডাক্তার।

দেখা না হলেও ততদিনে তাদের সম্পর্ক বেশ গভীর। কথায় কথায় উত্তেজনা সৃষ্টি করতো জুয়েল। পরিচয়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বেশ কয়েক বছর আগে। ফেসবুকের ছবি দেখইে একে-অন্যকে পছন্দ করেন। ঢাকার ইন্দিরা রোডের এক ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান জুয়েল।

ব্যবসায়িক সুবিধার কারণে পরিবারের সঙ্গে থাকেন উত্তরা। সেখানে গাড়ির ব্যবসা রয়েছে তার। প্রায়ই ছুটে যান বিভিন্ন দেশে।

এই ব্যস্ততার মধ্যেই যতœ করে সময় দেন তাহমিনাকে। এমনটিই জানতেন ডাক্তার তাহমিনা।তাহমিনা তখন ধানমন্ডি এলাকার একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত।

পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব। তারপর প্রেম। চুটিয়ে প্রেম বা লং ড্রাইভ.. সবকিছুতেই দু’জনের প্রচন্ড আগ্রহ। কিন্তু শর্ত দিয়ে দেন জুয়েল।

প্রথম দেখাতেই স্বামী-স্ত্রীর মতো সময় কাটাবেন। একদম হানিমুন বলা যায়। সেটা ঢাকার বাইরে কোথাও। তারপরও অন্যকিছু।

আমতা আমতা করছিলেন তাহমিনা। এটা কিভাবে সম্ভব। চতুর জুয়েল বুঝিয়ে সম্মতি আদায় করেন। ঘটনাটি ২০১৯ সালের শুরুর দিকে।

কথানুসারেই দেখা হয় এক সকালে। দু’জনের সঙ্গে দুটি ব্যাগ। রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা সেরে সোজা বিমানবন্দর। তারপর পৌঁছে যান সিলেটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here