‘রক্তের বদলা’। বেশ পুরনো বাংলা ছবি। সেই ছবির কুশীলব ছিলেন জসীম, ইলিয়াস কাঞ্চনসহ অনেকই। সেই সময়ের জনপ্রিয় নায়ক আলমগীর ওই ছবিতে ছিলেন না।

তবে পৌর নির্বাচন ঘিরে বাংলা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকেও হার মানানো ঝিনাইদহের শৈলকুপার ঘটনায় কুশীলব হিসেবে ঠিকই আছেন আরেক ‘আলমগীর’।

পুরো নাম আলমগীর হোসেন বাবু। তিনি ছিলেন ঝিনাইদহের শৈলকুপার ৮ নম্বর কবিরপুর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। গত বুধবার রাতে প্রতিশোধের বলি হয়েছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

এর আগে একই ওয়ার্ডের আরেক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেনের আপন ভাই শৈলকুপার উমেদপুর ইউনিয়ন

মধ্যরাতেই কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলমগীর হোসেন বাবুর প্রাণ কেড়ে নিয়ে কুমার নদের পারে ফেলে রাখা হয়।

জোড়া খুনের ঘটনায় শৈলকুপার ভোটের মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ রকম প্রেক্ষাপটে ওই ওয়ার্ডের ভোটের তফসিল বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল শনিবার এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীরা দলটির ক্ষমতাবানদের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে খুনোখুনিতে জড়িয়েছেন।

প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়ার পর সেই হুমকি কার্যকর করছেন স্বল্প সময়ের মধ্যেই। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও যদি কেউ এসব ক্ষমতাবান প্রার্থীর বিষয়ে মন্তব্য করে,

তাহলেও তাঁরা শক্তি প্রদর্শন ও অস্ত্রবাজি করছেন। এ ধরনের অস্ত্রবাজি করতে গিয়েই গত মঙ্গলবার রাতে ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী

আবদুল কাদের তাঁর অনুসারীদের নিয়ে হামলে পড়েন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের গণসংযোগে।

সেখানে গুলি ছুড়লে পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ব্যবসায়ী আজগর আলী বাবুল। পায়ে গুলি বিদ্ধ হয় মোহাম্মদ মাহাবুব নামে আরেক ব্যক্তির।

খুনোখুনিতে জড়ানোর পর রাতেই কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরসহ ২৬ জনকে আটক করে পুলিশ।

পরে বাবুলের ছেলের দায়ের করা মামলায় কাদেরসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে পাঠায়।এদিকে দেশজুড়ে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদিনই ঘটছে সহিংসতা।

হঠাৎ স্থানীয় নির্বাচনে রক্তারক্তি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন প্রার্থী, ভোটারসহ সবাই। বিরোধী দল চুপ থাকলেও নির্বাচনী মাঠে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা নিজেরাই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় বিশিষ্টজনরাও উৎকণ্ঠায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here