বগুড়ার আশরাফুল ইস’লাম আলম ওরফে হিরো আলম। যার পরিচিতি পুঁজি করে তাকে নিয়ে এফডিসি কেন্দ্রীক একাধিক নির্মাতা সিনেমা নির্মাণে উদ্যোগী হন।

যার ফলশ্রুতিতেই সাহস করে এবার নিজস্ব প্রযোজনায় সিনেমা করলেন আলম।ছবির নামও ‘সাহসী হিরো আলম’।

করো’নার কারণে সাত মাস বন্ধ থাকার পর গেল শুক্রবার দেশের ৬৬টি প্রেক্ষাগৃহ চালু হয়। যারমধ্যে অন্তত ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘সাহসী হিরো আলম’।

এমন মহাসমা’রোহে যে ছবি মুক্তি, প্রেক্ষাগৃহে তা কেমন চলছে? মানুষ দেখছে তো? রাজধানীসহ ঢাকার বাইরের বেশ কয়েকটি সিনেমা হলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,

হল কর্তৃপক্ষ ভেবেছিলো, অনলাইনে আলমের ভক্তদের পঞ্চাশ ভাগও যদি সিনেমা হলে আসেন, তাহলে ছবি হিট!

কিন্তু সিনেমা মুক্তির চারদিন পর দেখা গেল ভিন্নচিত্র!রাজধানীর প্রা’ণকেন্দ্র ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক শামসুদ্দিন মোহাম্ম’দ

‘সাহসী হিরো আলম’ নামের এ ছবি প্রদর্শন করে হতাশ হয়েছেন বলে জানান।শামসুদ্দিন মোহাম্ম’দ বলেন, শুক্রবার থেকে সোমবার,

এই ৪ দিনে হিরো আলমের ছবির সেল হয়েছে মাত্র ৬ হাজার টাকা। এখান থেকে ফিফটি-ফিফটি শেয়ার মানি রয়েছে।

পাশেই ছন্দ সিনেমা হলে চলছে শাকিব খানের ছবি ‘রাজধানীর রাজা’।শাকিব খানের ১৩ বছর আগের ছবি ৪দিনে ২০ হাজার টাকার বেশি সেল হয়েছে।

কিন্তু ফেসবুক ইউটিউব গরম করা আলম চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। আলমের ভিডিওতে যত ভিউ হয় তার কানাকড়ি দর্শকও হলে যায়নি।

১২০০ আসনের সিনেমা হলে শো প্রতি ৫ থেকে ৭ জন করে দর্শক পেয়েছি। এ থেকে তার শিক্ষা নেয়া উচিত।

তিনি বলেন, সেল এতো খা’রাপ যে হলের নিয়মিত কর্মচারীর বেতন, হলের বিদ্যুৎ-পানির বিল দেয়া সম্ভব হবে না। হিরো আলমের এ ছবি নেয়া চরমভাবে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

এর চেয়ে বাজে ছবি আর হতে পারে না। করো’নার মধ্যেও মানুষ টাকা সময় ব্যয় করে ছবি দেখতে এসে কিছুক্ষণ হল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

তাহলে ছবির অবস্থা কত খা’রাপ বলার অ’পেক্ষা রাখে না।তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা বিধি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ছবি চালাচ্ছি,

কিন্তু ছবি ভালো না হওয়ায় দর্শক দেখছে না। ১১৭০ সিটের মধ্যে অর্ধেকের চেয়ে কম টিকেট বিক্রি হলেও তো খুশি হতাম। তাতো হচ্ছেই না, বরং সাগরের মধ্যে একটা পাতা ফেলার মতো অবস্থা।

‘সমাজ, সংস্কৃতি, দর্শকদের জীবনবোধের সঙ্গে মিল নেই এমন ছবি দর্শক কোনোভাবেই গ্রহণ করে না তার বড় প্রমাণ হিরো আলমের এই ছবি।

আলমের মতো সবাই নায়ক হতে চায়। কিন্তু আদৌ নায়ক হওয়ার যোগ্যতা আছে কিনা হাজারবার ভেবে মাঠে নামা উচিত। শিল্পীরা সাধারণ মানুষদের কাছে একপ্রকার অ্যাম্বাসেডর।

ইংরেজিতে ডাবিং বা সাবটাইটেল করে ‘সাহসী হিরো আলম’ যদি পশ্চিমা বিশ্বে মুক্তি দেয়া হয় তাহলে তারা মনে করবে বাংলাদেশের নায়ক বা কালচার এমন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here