রাজধানীর মালিবাগে ফাঁকা বাসায় সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বাসার গৃহকর্মীর হাতে।

পরে টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় ওই গৃহকর্মী। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

পরে বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে বিস্তারিত জানা যায়।ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বছর তিনেক ধরে কিডনির সমস্যাসহ নানা

শারীরিক জটিলতায় ভোগা বেগম নামে ওই বৃদ্ধা শুয়ে আছেন বিছানায়। পাশে পরম যত্নে তার সেবা করছেন রেখা নামে এক গৃহকর্মী।

শীতের সকালে বৃদ্ধার গায়ে ইচ্ছেমতো ঢালা হয় ঠাণ্ডা পানি। কিন্তু ভেতরে গৃহকত্রীকে আটকাতে না পেরে বেরিয়ে আসে রেখার আসল চেহারা।

যে লাঠি বৃদ্ধ বয়সে ছিলো ভরসা, তা দিয়েই শুরু হয় বেদম প্রহার। মার খেয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলেও ক্ষান্ত হননি রেখা। এরপরও একের পর এক আঘাত করা হয় মাথায়।

একপর্যায়ে হাতের কাছে যা পেয়েছে তা দিয়েই চালিয়েছে নির্যাতন। আলমারির চাবির জন্য বুকে উপর চেপে বসে। বটি হাতেও তেড়ে আসেন রেখা।

এসব কিছুর মাঝে তার লক্ষ্য আলমারি। এক সময় অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেন বিলকিস বেগম। তার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন খুলে নিজের গলা পরেন। আয়েশি ভঙ্গিতে পরখ করে নেন হাতের বালা।

তারপর চাবির সন্ধান পায় নিষ্ঠুর এই গৃহকর্মী। কিন্তু খুলতে না পেরে রক্তাক্ত, অসুস্থ বৃদ্ধাকে টেনে নিয়ে বাধ্য করেন আলমারি খুলে দিতে।

ড্রয়ার খুলে স্বর্ণ, টাকা, মোবাইল সবই হস্তগত করে রেখা। পুরোটা সময় বিবস্ত্র বৃদ্ধা, নিজের হাতেই রক্ত থামাতে মাথায় বাঁধেন কাপড়।

সব হাতানোর পর কক্ষে তালা দেয় রেখা। তারপর খুলে আনে টিভি। জোগাড় করে ব্যাগ। সবকিছু গুছিয়ে ফাঁকা বাসায় আহত বৃদ্ধাকে ফেলে বেরিয়ে যায় গৃহকর্মী।

মালিবাগের ওই বাসায় স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে দুজনকে নিয়ে এতদিন নিরাপদেই বসবাস করে আসছিলেন বিলকিস বেগম।

বৃদ্ধার মেয়ে মেহবুবা জানান, মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসা ফাঁকা রেখে ভাইয়েরা ঢাকার বাইরে যাওয়ায় গৃহকর্মী এমন সুযোগ পেয়েছে। পরে শাহজাহানপুর থানায় অভিযোগ জানান তিনি।

এ বিষয়ে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, গৃহকর্মীদের নামে ছদ্মবেশে পেশাদার অপরাধীরা ঢুকে যাচ্ছে মানুষের বাসাবাড়িতে।

বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীদের কাজ দেয়ার আগে তাদের বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here