নতুন অধ্যায়ে অপু বিশ্বাস’ফিরে আসা সব সময়ই কঠিন। আবার এ কথা পুরোপুরি সত্য নয়- এর প্রমাণ দিলেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।

লম্বা বিরতির পর ফিরে এসে তিনি জানান দিলেন, চাইলেই নতুনরূপে ফেরা যায়; শুধু প্রয়োজন ইচ্ছা আর অধ্যবসায়।

অবশ্য অপুর ভক্তরাও প্রতীক্ষায় ছিলেন দীর্ঘদিন। প্রতীক্ষায় থাকবেন নাই বা কেন? ‘কোটি টাকার কাবিন’ থেকে শুরু করে

‘আমার জান আমার প্রাণ’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘মনে বড় কষ্ট, ‘এক বুক ভালোবাসা’, ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’, ‘কোটি টাকার প্রেম’,

কোনো মন্ত্র নয়, আত্মবিশ্বাস আর মনের সঙ্গে লড়াই করে নিজেকে বদলে ফেলেছেন অপু বিশ্বাস। কঠিন সময় পেছনে ফেলে জীবনকে সাজিয়েছেন নতুনভাবে।

প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, একজন সচেতন নারী, এক নিবেদিত মা।সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই অভিনেত্রী যেন আরও তরুণী হয়ে উঠেছেন।

শুধু রূপলাবণ্যে নয়, অসংখ্য দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি নিজ অভিনয় গুণে। নিউ নরমাল লাইফে একেবারে নতুন লুক নিয়ে ‘ছায়াবৃক্ষ’ ছবির শুটিংয়ে ফিরেছেন অপু।

তাকে দেখলে এখন যে কেউ বলবেন, এ যেন অন্য অপু! করোনাকালে এক বছরের বিরতির পর কাজে ফিরলেন তিনি।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কোদালা চা বাগানে ছবির শুটিং চলছে এখন। শেষ হবে ২৫ নভেম্বর। এতে অপুর বিপরীতে অভিনয় করছেন নিরব।

এই ছবির মাধ্যমে ১১ বছর পর তারা একসঙ্গে কাজ করছেন। এর আগে একই ছবিতে অভিনয় করলেও জুটি হয়ে এবারই তাদের দেখা যাবে।

সরকারি অনুদানের এ ছবিটি পরিচালনা করছেন বন্ধন বিশ্বাস।অপু বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে শুটিংয়ে ফিরেছি, ভালোই লাগছে।

নতুনভাবে এই ফিরে আসার জন্য শরীরচর্চা ও নির্দিষ্ট ডায়েটের মধ্যে থেকে ওজন কমাতে হয়েছে। নির্মাতা যখন শুটিংয়ের কথা পাকাপাকি করলেন,

তখন থেকে নিজেকে বদলের প্রস্তুতি নিই। ছবির চরিত্রের জন্য মানানসই হতে তিন মাস সময় লেগেছে। অভিনয়ের বিরতি ভাঙার জন্য যেমন গল্প ও চরিত্রের আশায় ছিলাম, তা খুঁজে পেয়েছি ‘ছায়াবৃক্ষ’ ছবিতে।

এতে দর্শকের সামনে নতুন এক অপু আসবে। তা ছাড়া নির্মাতা বন্ধন বিশ্বাস যে পরিকল্পনা সাজিয়ে কাজটি করতে চাচ্ছেন তাতে আমার ধারণা,

সরকারি অনুদানের এই ছবিটি অন্যান্য ছবি থেকে দর্শক ভিন্নতা খুঁজে পাবেন।ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে অপু বলেন, ছায়াবৃক্ষ ছবিতে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে।

এখানে পাহাড়ি চা শ্রমিক ‘তুলি’ চরিত্রে অভিনয় করছি। আমার অভিনয়ের শুরু থেকে যে চরিত্রে অভিনয় করেছি, সেই চরিত্র নিয়ে জানার চেষ্টা করেছি, যাতে অভিনীত চরিত্রটি বাস্তব মনে হয়।

সে কাজেই প্রাধান্য দিই, যার মধ্য দিয়ে নিজেকে বারবার ভাঙা যায়। চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য শুটিংয়ের আগে

চা শ্রমিকদের সঙ্গে মিশেছি, কথা বলেছি, তাদের জীবনযাপন লক্ষ্য করেছি। ফলে কাজটি সহজ হয়েছে।
ছবিতে অভিনয়ের কারণেই চা শ্রমিকদের জীবন-যাপন খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here