নবীর মসজিদ, আরবিতে বলা হয় মসজিদে নববী। এ মসজিদের নির্মাণকাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন হযরত মুহাম্ম’দ সা:। অবস্থান সৌদি আরবের ম’দিনার কেন্দ্রস্থলে।

হযরত মুহাম্ম’দ সা: মক্কা থেকে ম’দিনায় হিজরত করার বছর ৬২২ সালে এ মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের পাশেই ছিল হযরত মুহাম্ম’দ সা: এর বসবাসের ঘর।

মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে রয়েছে একটি সবুজ গম্বুজ। গম্বুজটি নবীর মসজিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ এ গম্বুজের নিচেই রয়েছে শেষ নবী হযরত মুহাম্ম’দ সা:-এর রওজা মোবারক।

হযরত মুহাম্ম’দ সা: মসজিদের পাশে যে ঘরে ইন্তেকাল করেন সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। পরে মসজিদ সম্প্রসারণের

বর্তমানে যে গম্বুজটি দেখা যাচ্ছে সেটি নির্মিত হয় ১৮১৮ সালে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের সময়।

হযরত মুহাম্ম’দ সা: নবুওয়াত লাভের পর মসজিদে নববীকে তৃতীয় মসজিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। মক্কা থেকে ম’দিনায় হিজরত করার পথে ম’দিনা থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে কুবা নামক স্থানে হযরত মুহাম্ম’দ সা: একটি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।

এটিকেই সে সময়ে প্রথম মসজিদ হিসেবে গণ্য করা হয়। অবশ্য ইরিত্রিয়ার মাসওয়ায় অবস্থিত সাহাবা মসজিদকেও কেউ কেউ নবীর সময়ে নির্মিত

প্রথম মসজিদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা হোক কুবা মসজিদের ভিত্তি স্থাপন এবং নবীর মসজিদের সরাসরি নির্মাণ কাজে অংশ নেন রাসূলে পাক সা:।

বর্তমানে মু’সলমানদের কাছে পবিত্র কাবার পর মসজিদে নববীকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়। হাজীরা সবাই পরিদর্শন করেন এ মসজিদ।

কারণ এ মসজিদের মধ্যে রয়েছে হযরত মুহাম্ম’দ সা:-এর রওজা মোবারক। মক্কা থেকে হিযরতের পর জীবনের বাকি বছরগুলো ম’দিনাতেই কা’টান তিনি।

তবে হযরত মুহাম্ম’দ সা:-এর সময়ে নির্মিত মসজিদের অবকাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই। শুরুতে মসজিদটি ছিল মূ’লত দেয়াল ঘেরা একটি খোলা স্থান।

ওহী তথা কুরআন নাজিলে, মানুষের সম্মি’লন স্থান এবং বিচার ফয়সালা সম্পন্ন হতো এখানে। কুরআন শেখার জন্য একটি উঁচুস্থান ছিল।

মসজিদের কিছু অংশে ছাদের ব্যবস্থা ছিল যার খুঁটি ছিল খেজুর গাছের। আর কিবলা ছিল জেরুসালেমের দিকে। পরে কুরআনে কিবলা পরিবর্তনের আয়াত নাজিল হলে কিবলাও পরিবর্তন করা হয়।

মসজিদটি যে স্থানে নির্মিত হয় তার এক অংশে খেজুর শুকানো হতো। মালিক ছিলেন সাহল ও সুহাইল। মসজিদ নির্মাণের জন্য তারা এটি দান করতে চাইলে হযরত মুহাম্ম’দ সা: দান গ্রহণ না করে কিনে নেন।

প্রথমে মসজিদটির আয়তন ছিল ১০০/১১৬.৯ ফুট। দেয়ালের উচ্চতা ১১.৮ ফুট। মসজিদের তিনটি দরজা ছিল। খায়বার যু’দ্ধের পর

মসজিদ চার দিকে সম্প্রসারণ করা হয়। পশ্চিমে তিন সারি খুঁটি নির্মাণ করা হয় এবং এ স্থান সালাতের জন্য ব্যবহার করা হয়।

এরপর হযরত উম’রের (রা:) সময় এ মসজিদ সম্প্রসারণ করা হয়। হযরত উসমানের (রা:) সময় ৬৫৯ সালে পুরো মসজিদ ভে’ঙে নতুন করে নির্মাণ করা হয়।

খেজুর গাছের খুঁটির পরিবর্তে পাথরের খুঁটি ব্যবহার করা হয়। এভাবে পরে বিভিন্ন সময় সংস্কার আর সম্প্রসারণ চলতে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here