সাড়ে তিন বছরের বাচ্চাটির উপর অন্ধ আক্রোশে ঝাঁ’পিয়ে পড়েছিল ম’হিলা। তাকে উল্টো করে ঝু’লিয়ে আছড়ে ফেলল বিছানার উপর। তার পর সপাটে একের পর এক থা’প্পড়, ঘু’ষি।

শি’শুটি কোনও মতে নেমে কিছু বলার চেষ্টা করে। হাতজোড় করে ক্ষমা চায়। আর গোলাপি সালোয়ার-কামিজ পরা মধ্য তিরিশের ম’হিলা প্রায় ফুটবল খেলার মতো করে লা’থি কষাতে থাকে তাকে।

সিসিটিভি ফুটেজে এই দৃশ্য দেখে ভ’য়ে হকচকিয়ে গিয়েছিলেন শালিনী অগ্রবাল। বন্ধ ঘরের ভিতরে কেন তাঁর শি’শুপুত্রকে গৃহশিক্ষিকা এ ভাবে মারছে, সেটা কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না তিনি।

যদিও বেশ কিছু ক্ষণ ধরেই ছেলের কা’ন্নার আওয়াজ আসছিল। তার পর ওই দৃশ্য! বারবার দরজায় ধাক্কা দিয়েছিলেন মা, লাভ হয়নি। বেশ খানিক ক্ষণ পরে দরজা খুলতে দেখা যায়, বিছানার উপর নেতিয়ে পড়ে রয়েছে শি’শুটি।

তবে তার স্বা’মী চাঁদনি চকের একটি দোকানে কাজ করে বলে জানা গিয়েছে। বিধাননগর পু’লিশ কমিশনারেটের এডিসি (সল্টলেক) দেবাশিস ধর বলেন, “অ’ভিযুক্তের খোঁজে সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় তল্লা’শি শুরু হয়েছে।”

সাড়ে তিন বছরের বাচ্চাটি মৌলালির সেন্ট জেম্স স্কুলে নার্সারির ছাত্র। গত ১৫ জুলাই তার জন্য পূজাকে গৃহশিক্ষিকা হিসেবে রাখা হয়েছিল। শালিনীদেবী বলেন,

“আমাদের এক নিকট বন্ধুর মাধ্যমে পূজার খোঁজ পেয়েছিলাম। ও যে এমন আমানবিক আচরণ করবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। আজ আমার ছেলের স’ঙ্গে যা হয়েছে, এ রকম যেন কারও স’ঙ্গে না-হয়।”

শালিনীদেবী এ দিন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পড়াতে এসে পূজা তাঁকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। তার দাবি ছিল, মা ঘরে থাকলে ছেলে ঠিকমতো পড়াশোনা করবে না। শালিনী বেরিয়ে যেতেই দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেয় পূজা।

শালিনী পরে সাংবাদিকদের বলেন, “কিছু ক্ষণ পর থেকেই ছেলের কা’ন্নার আওয়াজ পাচ্ছিলাম। কেন কাঁদছে জিজ্ঞাসা করলে পূজা ভিতর থেকে বলছিল, ‘আপনি বাজারে চলে যাচ্ছেন ভেবে ও কাঁদছে।’

কিন্তু অনেক ক্ষণ ধরে কা’ন্না শুনে স’ন্দে’হ হয়েছিল। অগ্রবাল পরিবারের প্রতিটি ঘরেই নিরাপত্তার কারণে সিসিটিভি লাগানো রয়েছে। স’ন্দে’হের বশেই ড্রয়িং রুমের কম্পিউটার খুলে সিসিটিভি-র ফুটেজ দেখতে বসেছিলেন শালিনীদেবী। তখনই দেখতে পান তাঁর ছেলেকে কী নিষ্ঠুর ভাবে মা’রধর করছে পূজা।

আ’তঙ্কিত মা দরজায় ধাক্কা মা’রতে শুরু করেন। কিন্তু দরজা খুলতে চায়নি পূজা। বেশ কিছু ক্ষণ পরে দরজা খোলে সে। শালিনীদেবী বলেন, “ঘরে ঢুকে দেখি বিছানার উপর ছেলেটা পড়ে আছে। পূজাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কেন ওকে মে’রেছে? ও বলে, ‘না মারিনি, এমনি অ’সুস্থ হয়ে পড়েছে।” শালিনীদেবীর অভিযোগ, তিনি যখন ছেলেকে বিছানা থেকে তুলতে যান, তখনই সুযোগ বুঝে চম্পট দেয় পূজা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here