নব্বই দশকের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাহিন আলম না ফেরার দেশে চলে গেছেন । গত সোমবার (৮ মার্চ) মৃ’ত্যুবরণ করেন তিনি। এক সময়ে চলচ্চিত্রে দাপিয়ে অভিনয় করতেন শাহিন আলম।

কিন্তু মৃ’ত্যুর দীর্ঘদিন আগেই অভিনয়কে বিদায় জানিয়ে শুরু করেছিলেন নিজের ব্যবসা। মৃ’ত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে আর সিনেমায় ফিরতে দেখা যায়নি।

শাহীন আলমকে অন্যভাবে আবিস্কার করা গেল একজন হাউজ টিউটরের নবয়ান থেকে। যার বর্ণনায় উঠে এসেছে শাহীন আলমের মানবিকতার চিত্র।

কাজী মুশফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সেই সময় পড়াতেন শাহীন আলমের ছেলেকে। যিনি ছাত্র থাকাকালীন শাহীন আলমের ছেলের গৃহশিক্ষক ছিলেন।

গল্পে মুশফিকুর আরও লিখেছেন, ‘যখন বাচ্চাটাকে পড়িয়েছি বেশীরভাগ দিনই দুপুরের ভাত খাওয়াটা হতো না, সেই জাহাঙ্গীরনগরে ২.৩০ এর বাস ধরতে ছুটতে হতো।

সেই জাহাঙ্গীরনগর টু নিকেতন। কাঁচা রাস্তা। মহাখালী ফ্লাইওভারের কাজ চলে… সে এক তৃতীয় বিশ্বযু’দ্ধ। পড়ানো শেষ করে ফিরতে হতো রাতে… যাক সে আলাপও থাক।

একদিন শাহীন আলম সাহেব এর মা এসে দেখলেন চায়ের সাথে দেয়া গোটা কয়েক বিস্কুট এক নিমিষেই খেয়ে ফে’লেছি, চ’রম ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত আমার সেদিকে কোন খেয়াল ছিলো না। পরদিন থেকে হঠাৎ রকমারি নাস্তা আসতো।

রাক্ষুসে খিদেটা মিটতো। একদিন কালো স্যুট পরা শাহীন আলম সাহেব আমাকে রাতে নিকেতনের কাঁদাপানিতে ফিরতে দেখেন, আমি হন্ত’দন্ত হয়ে ৮টার বাস টার্গেট করে জো’র কদমে হাঁটছি বলা ভু’ল হবে, দৌড়োচ্ছি… পরেরদিন ছেলের পড়া দেখতে আসবার ছলে অবজারভ করেন আমি সমুচা-রোল যা দেয় তা ঝাঁ’পিয়ে পরে খাই। পড়ানোর চেয়ে খাওয়ায় আমার আ’গ্রহ। কোনও কথা না বলে অন্য রুমে চলে যান।’

কাজী মুশফিকুরের স্ট্যাটাসে যেন মানবিকতার সাগর এক শাহীন আলমকে দেখা গেল। তিনি বললেন, তারপর থেকে মাস্টার্স দেয়া অবধি যতদিন ফাহিম সম্ভবত ছেলেটার নাম,

পড়িয়েছি আমার জন্য বাহারি তরকারি দিয়ে ভাত আসতো নাস্তা হিসেবে। রাতে ওনার চকচকে গাড়িটা বেশিরভাগ দিনই আসাদ গেট নামিয়ে দিয়ে যেত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টার বাস ধরতে।

বেতনও বাড়িয়ে দিলেন না চাইতেই! এমন অসীম মমতাবান একজন মানুষকে আপনারা চিনেন একজন অভিনেতা হিসেবে, অ’শ্লীল ছবিও করেছেন তিনি… আপনাদের হিসেবে।

আর আমি চিনি একজন অভুক্ত মানুষকে পরম মমতার ছায়ায় আশ্রয়দাতা হিসেবে। আপনাদের হিসেবে কুলোবে না। শাহীন আলম আল্লাহতালা আপনাকে অনেক অনেক শান্তিতে রাখুক। আমিন।’

শাহীন আলম মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে এফডিসির ‘নতুন মুখের সন্ধানে’-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান তিনি। তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রা’প্ত চলচ্চিত্র ‘মায়ের কা’ন্না’, এটি ১৯৯১ সালে মুক্তি পেয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here