কক্সবাজারের রামুতে বিয়ে কার্যকর থাকার পরও স্বা’মীর ভাগিনাকে বিয়ে এবং স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া তালাকনামা সম্পাদনের মা’মলায় স্কুলশিক্ষিকা শামীমা আক্তারের বি’রুদ্ধে গ্রে’ফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আ’দালত।

শামীমা আক্তার রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ঘোনারপাড়া স’রকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এবং পেকুয়া উপজে’লার পূর্ব গোয়াখালী এলাকার জাফর আহম’দের মে’য়ে।জানা গেছে, দ্বিতীয় বিয়ে কার্যকর থাকার পরও স্বা’মীর ভাগিনাকে বিয়ে এবং

স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া তালাকনামা সম্পাদনের অভিযোগে শিক্ষিকা শামীমা আক্তারের বি’রুদ্ধে মা’মলা করেন দ্বিতীয় স্বা’মী চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজে’লার দক্ষিণ জলদি গ্রামের বাসিন্দা রশিদ আহম’দ।

গত ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যা’জিস্ট্রেট, আমলি আ’দালত-০২ এ মা’মলা (নং ১৪৯৫/২০২০) দা’য়ের করা হয়। আ’দালতের নির্দেশে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো এর ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন গত ১০ নভেম্বর মা’মলার ত’দন্ত প্রতিবেদন দেন।

ওই সংসারে জমজ কন্যা স’ন্তান থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক দ্ব’ন্দ্বের কারণে ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাদের বিচ্ছেদ হয়। ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো রশিদ আহম’দকে বিয়ে করেন তিনি। কর্মস্থল রামুতে হওয়ায় সেখানে ভাড়া বাসা নিয়ে স্বা’মী-স্ত্রী বসবাস শুরু করেন।

একপর্যায়ে রশিদ আহম’দ প্রবাসে চলে যান। প্রবাস থেকে আসা যাওয়ায় তাদের সংসার ঠিকঠাক চলছিল। রশিদ আহম’দ তার স্ত্রী শামীমার নামে কক্সবাজারের ঝিলংজায় জমিও ক্রয় করেন।

এছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে স্বা’মীর কাছ থেকে মো’টা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিতেন। রশিদ আহম’দ প্রবাসে থাকাকালে জরুরি প্রয়োজনে শামীমার দেখাশোনা করতেন তার ভাগিনা জাকির হোসেন।

দেখাশোনার একপর্যায়ে রশিদের ভাগিনা জাকিরের স’ঙ্গে অবৈধ সম্প’র্কে জড়িয়ে পড়েন শামীমা। জাকির হোসেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজে’লার জলদি রঙ্গিয়াঘোনা এলাকার মোস্তাক আহম’দের ছেলে।

ত’দন্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় স্বা’মী রশিদ আহম’দের বিয়ে বৈধ থাকার পরও ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি শামীমা জাকির হোসেনকে বিয়ে করেন। শামীমা এবং তার তৃতীয় স্বা’মী জাকির উভ’য়ে তাদের বিয়ে বৈধ করার লক্ষ্যে একটি ভুয়া তালাকনামা সৃজন করে।

ওই তালাকমানায় ব্যবহৃত দুটি ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে তালাকের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। বা’দী রশিদ আহম’দ বি’ষয়টি স’ন্দে’হজনক মনে করে চট্টগ্রাম ট্রেজারি অফিসে সন্ধান চেয়ে জানতে পারেন,

স্ট্যাম্প দুটি চট্টগ্রাম ট্রেজারি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ২০১৭ সালের ২০ জুন। অর্থাৎ স্ট্যাম্প সৃষ্টি বা বাজারে আসার আগেই তালাকনামা সৃষ্টি করা হয়েছে। যা প্র’তারণামূ’লক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এরই প্রেক্ষিতে আ’দালত শামীমার বি’রুদ্ধে গ্রে’ফতারি পরোয়ানা জারি করে।

এছাড়াও ত’দন্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে- শামীমা আক্তার দ্বিতীয় স্বা’মী রশিদ আহম’দের কাছ থেকে কৌশলে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে বিপুল টাকা গ্রহণ করতেন। যা এরআগে দা’য়েরকৃত সিআর মা’মলার (নং ৯৭/২০১৯) প্রেক্ষিতে সিআইডি’র দেয়া ত’দন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে।

মা’মলার বা’দী রশিদ আহম’দ জানিয়েছেন, শামীমা আক্তারের ফাঁ’দে পড়ে অনেক পুরু’ষ নিঃস্ব হয়েছেন। বিয়ের নামে তিনি তার কাছ থেকে জমি, বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সর্বশেষ তার আপন ভাগিনাকে বিয়ে করায় তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here