এক পুরু’ষের স’ঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কা’টাতে এই দুই না’রীর ছিলো ব্যাপক প্রতিযোগিতা। একজনের নাম নাহিদা রুনাই। অন্যজনের নাম অবন্তিকা বড়াল।

এই দু’জনই অর্থ কে’লেঙ্কারিতে অ’ভিযুক্ত বিপুল টাকা-পয়সার মালিক পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। এক কথায় এই দু’জনের স’ঙ্গেই পি কে হালদারের ছিলো স্বা’মী-স্ত্রী’র মতোই সম্প’র্ক। আর এই দু’ই না’রী একে অপরের মধ্যকার সম্প’র্ক ছিলো সতীনের মতো।

সম্প্রতি দুদকের মা’মলায় আ’দালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানব’ন্দি দেন পি কে হালদারের অন্যতম সহযোগী পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের কাছে দেওয়া ওই জবানব’ন্দিতে নাহিদা রুনাই ও অবন্তিকা বড়ালের বি’ষয়ে চাঞ্চল্যকর ত’থ্য দেন উজ্জ্বল কুমার নন্দী।

জবানব’ন্দিতে রুনাইকে ‘বড় আপা’ উল্লেখ করে উজ্জ্বল বলেন, ‘পি কে হালদারের ২ বান্ধবী অবন্তিকা বড়াল ও নাহিদা রুনাই। এই দু’জনের স’ঙ্গে তিনি পৃথকভাবে ২০ থেকে ২৫ বার সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন।

জবানব’ন্দিতে উজ্জ্বল কুমার নন্দী আরও বলেন, ‘আমরা রুনাইকে বড় আপা আর অবন্তিকাকে ছোট আপা ডাকতাম। কারণ রুনাই চালাত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং আর অবন্তিকা চালাত পিপলস লিজিং।

পি কে হালদার বিভিন্ন সময় আমাকে বিভিন্ন দেশে প্রমোদ ভ্রমণে পাঠাতেন। তার স’ঙ্গে ৩ বার মালয়েশিয়ায় গিয়েছি। আমার স’ঙ্গে অমিতাভ অধিকারী, রাজীব সোমও মালয়েশিয়ায় যান।

একবার যাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। প্রতিবারই ভ্রমণের সব খরচ দিয়েছেন পি কে হালদার। তার টাকায় আমি সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে গিয়েছি ৩ বার। এসব ভ্রমণে আমার স’ঙ্গী হতো রাজীব সোম, অমিতাভ অধিকারী এবং পি কের বান্ধবী অবন্তিকা বড়াল।’

রুনাই ও অবন্তিকার সম্প’র্ক ছিল সতীনের মতো

দুদকের অনুসন্ধান দলের এক কর্মকর্তা আলাপকালে বলেন, ‘রুনাই ও অবন্তিকার স’ঙ্গে পি কে হালদারের সম্প’র্ক ছিল স্বা’মী-স্ত্রীর মতোই। আর রুনাই ও অবন্তিকার সম্প’র্ক ছিল সতীনের মতো। বিদেশ ভ্রমণ নিয়েও তাদের দু’জনের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিযোগিতা।

একবার গো’পনে অবন্তিকাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে প্রমোদ ভ্রমণে যান পি কে। রুনাই বি’ষয়টি জানতে পেরে পি কের ও’পর শা’রীরিক নি’র্যাতন চালান বলে বিভিন্ন জনের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এ ছাড়া অবন্তিকার স’ঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে পি কের ও’পর কয়েক বারই হা’মলা করে রুনাই।’

অবন্তিকাকে নিয়ে গো’পনে বিদেশ যাওয়া

অবন্তিকাকে নিয়ে গো’পনে বিদেশ যাওয়াকে কেন্দ্র করে একবার এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের গুলশানের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে পি কের স’ঙ্গে রুনাই তুমুল ঝ’গড়া করেন জানিয়ে ওই দুদক কর্মকর্তা বলেন, ‘যা উপস্থিত সহকর্মীরা প্রত্যক্ষ করেন।

এ ছাড়া রাতে পি কের বাসায় গিয়ে ব্যাপক ভা’ঙচুর করেন রুনাই। অন্য একবার অবন্তিকাকে নিয়ে গো’পনে বিদেশ যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফিল্মি স্টাইলে দু’জনকে ধরে নিয়ে আসেন রুনাই। ওই যাত্রায় অবন্তিকাকে নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে যাওয়া হয়নি পি কের।’

গ্রে’প্তার অবন্তিকা

গত ১৩ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মা’মলায় অবন্তিকা বড়ালকে গ্রে’প্তার করে দুদক। তাকে ২ দফায় রি’মান্ডে এনে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হয়। এখন তিনি কা’রাগারে রয়েছেন।

দুদক স’চিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার গত সোমবার (৮ মার্চ) এক ব্রিফিংয়ে জানান, নাহিদা রুনাইসহ পি কের ৪৪ সহযোগীর বিদেশ যাত্রায় নি’ষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রুনাইসহ ৩৩ জনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিবরণী জারির নোটিস দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এ ছাড়া ৩৩ জনের বি’রুদ্ধে ১০টি মা’মলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার প্রতিটি মা’মলার প্রধান আ’সামি হচ্ছেন পি কে। আগামী রোববার (১৪ মার্চ) দুদকের সমন্বিত জে’লা কার্যালয়ে মা’মলাগুলো হওয়ার কথা রয়েছে।

কেরানীকন্যা রুনাইর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭০ কোটি টাকার লেনদেন

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ভাইস প্রে’সিডেন্ট নাহিদা রুনাইয়ের সম্পদ দেখে তাজ্জব বনে গেছে দু’র্নীতি দ’মন কমিশনের (দুদক) ত’দন্ত দল। গত ৪-৫ বছরের মধ্যে তার ব্যাংক হিসাবে ৭০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া রুনাইয়ের কমপক্ষে ২৮ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ত’থ্য পেয়েছে কমিশনের দলটি। যা একটি স’রকারি দপ্তরে ‘কেরানি পদ’-এ চাকরি করা বাবার অফিস এক্সিকিউটিভ মে’য়ের পক্ষে বৈধভাবে অর্জন অসম্ভব বলেই মনে করছেন ত’দন্ত সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের অর্থ পা’চারের অন্যতম সহযোগী ও বান্ধবী হিসেবে পরিচিত নাহিদা রুনাই এখনো নিয়মিত অফিস করছেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে।

পি কে হালদারের কমপক্ষে ৪ টি প্রতিষ্ঠান নি’য়ন্ত্রণ করতেন তিনি। পি কে হালদারের বি’রুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসা’ৎ ও পা’চারের অভিযোগ ত’দন্তকারী দুদক দলের সদস্যদের স’ঙ্গে কথা বলে এসব চাঞ্চল্যকর ত’থ্য জানা গেছে।

পি কে হালদারের অর্থ আত্মসা’ৎ ও পা’চারের বি’ষয়ে অনুসন্ধান ও ত’দন্ত করছে দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যদের একটি দল।

কে এই নাহিদা রুনাই?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রামের খুলশী থানার পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার জাকির হোসেন বাইলেন স্থায়ী ঠিকানার বাসিন্দা নাহিদা রুনাই। তাদের বাড়িটি স্থানীয়ভাবে মোজাফ্ফর খানের বাড়ি হিসেবে পরিচিত।

রুনাইয়ের বাবার নাম মফিজুর রহমান। তিনি চট্টগ্রামে একটি স’রকারি দপ্তরে ‘করণিক’ পদে চাকরি করতেন। রুনাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডে চাকরি পান।

যেভাবে পি কের স’ঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্প’র্কে জড়ান রুনাই

রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডে ২০০৯ সাল থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন পি কে হালদার। ২০১১-১২ সালে পি কে হালদারের স’ঙ্গে পরিচয় হয় রুনাইয়ের। এরপর ঘনিষ্ঠতা। তারপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

বিশেষ হাতের ছোঁয়ায় দ্রু’ত উন্নতি হয় রুনাইয়ের। এসএমই লোন শাখার অফিস এক্সিকিউটিভ থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান পি কে হালদারের বান্ধবী ‘বড় আপা’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন পি কে হালদার।

পি কে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে নাহিদা রুনাইকে নিয়ে আসেন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে। দ্রু’ত সময়ে তাকে ৪ টি পদোন্নতি দিয়ে ভাইস প্রে’সিডেন্ট করেন পি কে হালদার। সুত্র: আরটিভি অনলাইন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here