পিরোজপুর পৌর মেয়র ও জে’লা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান মালেক এবং তার স্ত্রী নীলা রহমানসহ ২৮ জনের বি’রুদ্ধে পৃথক দুটি মা’মলা করেছে দু’র্নীতি দ’মন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে দুদকের সমন্বিত কার্যালয় বরিশালে মা’মলা দুটি করা হয়েছে। মা’মলার বা’দী দু’র্নীতি দ’মন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক আলী আকবর এমন ত’থ্য নিশ্চিত করেছেন।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৬ কোটি ৩৪ লাখ ৭ হাজার ৯৩২ টাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা একটি মা’মলায় পৌর মেয়র মালেক ও তার স্ত্রী নীলা রহমানকে আ’সামি করা হয়।

অপর একটি মা’মলায় পৌর মেয়র মালেক, স্থানীয় স’রকার ম’ন্ত্রণালয়ের উপ পরিচালক (সাবেক) তরফদার সোহেল রহমান, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জে’লা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালাম বাতেনসহ ২৭ জনকে আ’সামি করা হয়েছে। এ মা’মলায় জালিয়াতি, ক্ষ’মতার অ’পব্যবহারে ও অ’নৈতিক সুবিধা নিয়ে অবৈধভাবে পৌরসভায় ২৫ জন জনবল নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।

অফিস সহকারী মাকসুদা খানম, ফটোকপি অপারেটর আনোয়ার হোসেন, টিকাদনকারী জামিউল হক, টিকাদানকারী লাইজু আক্তার, টিকাদানকারী রেক্সোনা মজুম’দার,

টিকাদানকারী জান্নাতুল ফেরদৌসী, নৈ’শপ্র’হরী ফজলুল হক, নৈ’শপ্র’হরী নজরুল ইসলাম, পিয়ন খাদিজা বেগম, পিয়ন দীপক কুমার পাল, সহকারী কর আদায়কারী মিজানুর রহমান মিন্টু এবং প্রহরী রনজিত।

পিরোজপুর পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক ও তার স্ত্রী নীলা রহমানের বি’রুদ্ধে আজ দা’য়ের হওয়া মা’মলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৬ কোটি ৩৪ লাখ ৭ হাজার ৯৩২ টাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে তাদের বি’রুদ্ধে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ ডিসেম্বর সম্পদের বিবরণী চেয়ে পৌর মেয়র মালেক, স্ত্রী নীলা রহমান, মে’য়ে নওরীন আক্তার ও ছেলে ফয়সাল রহমানের নামে দুদক থেকে নোটিশ দেয়া হয়।

নোটিশের যথাযথ উত্তর না পাওয়ায় কমিশন বরিশালের উপ পরিচালক আলী আকবরকে অনুসন্ধানের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পৌর মেয়র মালেক ও তার স্ত্রী নীলা রহমানকে আ’সামি করে মা’মলা করা হয়।

অপরদিকে, পৌর মেয়র মালেকসহ ২৭ জনের বি’রুদ্ধে দা’য়ের হওয়া আরেক মা’মলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে প’রস্পর যোগসাজশে জালিয়াতি, প্র’তারণা ও ক্ষ’মতার অ’পব্যবহারে করে পৌরসভার ২৫ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে পৌরসভার ২৫ জন কর্মচারী নিয়োগে প্রতিজনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া বাস ও মিনিবাস থেকে অবৈধ চাঁ’দা আদায়, সিন্ডিকে’টের মাধ্যমে ঠিকাদারি করার অভিযোগ এনেও একই সময়ে নোটিশ দেয়া হয় পৌর মেয়রকে।

নোটিশের যথাযথ উত্তর না পাওয়ায় অনুসন্ধানে নামে দুদক। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বৃহস্পতিবার ২৭ জনের বি’রুদ্ধে মা’মলা দা’য়ের করা হয়।

অন্যদিকে পিরোজপুর পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের বড় ভাই একেএমএ আউয়াল পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সং’সদ সদস্য ও জে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

ক্ষ’মতার প্রভাব খাটিয়ে খাস জমিসহ স’রকারি সম্পত্তি আত্মসা’ৎ ও দ’খলের অভিযোগে এ কে এম এ আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের বি’রুদ্ধে গতবছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পৃথক তিনটি মা’মলা করে দু’র্নীতি দ’মন কমিশন (দুদক)। ওই তিনটি মা’মলায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আ’দালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাবিবুর রহমান মালেক গত দুই মেয়াদে পিরোজপুরের পৌর মেয়র। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে তিনি বিনাপ্রতিদ্ব’ন্দ্বিতায় তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here